এক নাপিতের কোটিপতি হওয়ার কাহিনী [ভিডিও]

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রূপকথার গল্পের মতোই কাহিনী রয়েছে আজকের এই প্রতিবেদনে। এক নাপিতের কোটিপতি হওয়ার কাহিনী। যিনি এখন শত শত কোটি টাকার মালিক।

story of a millionaire barber-01

বেঙ্গালুরুর রমেশ বাবুর জীবনের কাহিনী শুনে রুপকথার গল্পের মতোই মনে হলেও ঘটনা বাস্তব। দু’টাকার নাপিত এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। সেলুনে তিনি প্রতিদিন আসেন নিজের বিলাসবহুল রোলস রয়েস গাড়িতে করে। এই ‘বিস্ময়’ নাপিতের কাহিনী সম্প্রতি এনবিএস নিউজে প্রকাশ পায়।

story of a millionaire barber

রমেশ বাবু একজন সাধারণ নাপিত হলেও তার প্রাচুর্য্য বা ধনসম্পত্তির পরিমাণ ‘অসাধারণ’। তিনি ৬৭ দামি গাড়ি সমৃদ্ধ একটি রেন্ট-এ কার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

story of a millionaire barber-02

এমন ঘটনাকে অবশ্য ভাগ্য বলেই মানেন নাপিত রমেশ। তিনি বলেছেন, ‘আমার কপালটা খুলে গেছে’। এই কোটিপতি নাপিতের খদ্দের কারা সেটা জানলেও চোখ কপালে উঠতে পারে। নামিদামি রাজনীতিবিদ, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এমনকি বলিউডের সুপারস্টার সালমান খান, আমির খান, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মতো সুপারস্টাররা কেশ শয্যার জন্য রমেশের কাছেই আসেন!

story of a millionaire barber-03

রমেশ কর্মক্ষেত্রে আসেন ৩ কোটি রুপির বিলাসবহুল ‘রোলস রয়েস গোস্ট’ গাড়িতে চেপে। রমেশের এক কথা, যেমনভাবে এই গাড়ির যত্ন নেন, ঠিক তেমন যত্ন নিয়েই ক্ষৌরীর কাজ করেন তিনি। সেলুন ব্যবসা তো ভীষণ ভালো চলেই, সেইসঙ্গে গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসাটিও তার বিত্তে জোগান দেয়। আবার দামি গাড়ি সংগ্রহ করা রমেশের এক শখ। একই সঙ্গে গাড়িগুলো একজন সংগ্রাহকের মতোই যত্ন করেন তিনি।

এতো অর্থ-বিত্ত পাওয়ার পেছনের গল্প এত সোজা ছিল না। ১৯৮৯ সালের কাহিনী। রমেশের বাবা মারা যান সেবছর। রেখে যান একটা ছোট্ট সেলুন, রমেশ তখন বয়সে কিশোর। রমেশের মা দোকানটি দিনে মাত্র ৫ রুপির বিনিময়ে ভাড়া দিলেন, আর মানুষের বাড়িতে কাজ নিলেন। এভাবেই সংসার চলতো তাদের।

পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে রমেশ বেশ আগে প্রবণ হয়ে ওঠেন। রমেশ বলেন, ‘বাবা যেদিন মারা গেলেন, সেদিনের কথা আমার এখনও মনে পড়ে। খুব কম সময়ের জন্য খারাপভাবে চলে তাদের দিন। কিন্তু এভাবে বেশিদিন চলেনি। ১৯৯৪ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আর পড়ালেখা নয়, বাবার ব্যবসার হাল ধরতে হবে তাকে। তার স্কুলের পাশেই ছিল সেলুনটি। রমেশের হাতে শিগগিরই সেটি তরুণদের পছন্দের এক সেলুন হেয়ার স্টাইলিং জোন হয়ে ওঠলো।

আর তখন থেকেই গাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন রমেশ। ৩ বছর পর একটা ‘মারুতি ওমনি’ গাড়ী কিনে ফেলেন রমেশে। তারপর এটি ভাড়া দিতে শুরু করেন। তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ঠিক এভাবেই। তার মা যাদের অধীনে কাজ করতেন, তাদেরই একজন রমেশকে পরামর্শ দিলেন গাড়িটি তার নিজের প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিতে।

আর এভাবেই নতুন দিনের যাত্রা শুরু। সেলুনের ব্যবসা হতে লাভের পুরো টাকাই বিনিয়োগ করেন গাড়ির ব্যবসায়। এভাবে এগিয়ে যায় তার ব্যবসা। ৯০-এর দশক শেষে তিনি ট্যাক্সি ব্যবসায়ও সফল হন, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘রমেশ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’।

তারপর ২০০৪ সালে রমেশ নজর দেন বিলাসবহুল গাড়ির দিকে। এ সময় সরকার পর্যটন খাতে গুরুত্ব দেওয়ায় আরও সুবিধা হয় রমেশের। তখন থেকে রমেশের শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প শুরু। প্রথমে মাত্র একটি ‘মার্সিডিস ই ক্লাস লাক্সারি সেডান’ কেনেন। এটির দাম পড়ে ৩৮ লাখ রুপি। এরপর একে একে আরও ৩টি মার্সিডিজ ও ৩টি বিএমডব্লিউ। এরপর পুরো এক ডজন টয়োটা ইনোভা! এখন সব মিলিয়ে রমেশের প্রায় ২০০টির মত গাড়ি, ভ্যান এবং মিনি বাস রয়েছে। আর আমদানি করা বিলাসবহুল গাড়ির মধ্যে রোলস রয়েস সিলভার গোস্ট, মার্সিডিজ সি, এমনকি মার্সিডিজ ই, মার্সিডিজ এস, বিএমডব্লিউ ৫, বিএমডব্লিউ ৬, বিএমডব্লিউ ৭ সিরিজের গাড়িও রয়েছে।

এতো কিছুর পরও নাপিতের কাজটা বাদ না দেওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেন রমেশ। বিশাল বিত্তশালী হয়ে উঠলেও পুরনো পৈত্রিক পেশা বা কাজকে কখনই ভুলতে চান না রমেশ। এখনও নিজ হাতে সাধারণ খদ্দেরদের চুল কাটান মাত্র ৬৫ রুপিতেই!তার খদ্দেররা হচ্ছেন করপোরেট মহলের বড় বড় অনেক কর্মকর্তা। আবার চলচ্চিত্র জগতের নামিদামি তারকারাও রমেশের গাড়ি এবং সেলুন সার্ভিসের সাহায্য নিয়ে থাকেন।

এতো টাকার মালিক হলেও রমেশ পৈত্রিক পেশা ধরে রাখায় তার প্রতি আসক্ত এখন সবাই। এমন মানুষও আমাদের সমাজে রয়েছে। কোটিপতি হয়েও সাধারণ মানুষের কাজ করেন। নিজ পেশাকে অবমূল্যায়ন না করে তিনি সমাজকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন- কাজ কারও কাছেই ছোট কিছু নয়। হয়তো সেজন্যই তিনি পরিশ্রম করে আজ কোটিপতি! তথ্যসূত্র: indiatvnews.com

দেখুন রমেশের ভিডিও

Advertisements
Loading...