এবার ছিটমহল বিনিময়ে মমতার আপত্তি! নয়াদিল্লি ক্ষুব্ধ

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ আবারও মমতা ব্যানার্জী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এবার ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি তুলেছেন। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি বারং বার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার চেষ্টা করছেন। কারণ ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো এবং বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসও সকলের জানা। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভারতের যে ভূমিকা ছিল তাও এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু তারপরও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বার বার বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে যেভাবে আপত্তি তুলছেন তাতে প্রতিবেশী বন্ধু সুলভ সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। তাছাড়া ছিটমহল বিষয়টি পুরোপুরি দুটি দেশের বিষয় এবং এর সঙ্গে দুই দেশের অন্যন্য চুক্তিও নির্ভর করছে। তাই এটি শুধুই রাজ্য সরকারের বিষয় নয়, তারপরও কেনো মমতা ব্যানার্জী আপত্তি জানাচ্ছেন সেটিই ভাববার বিষয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি তোলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ওপর ক্ষুব্ধ্রও দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তাই চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সশোধনী বিল আনতে মনমোহন সরকারকে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মমতা যদি শেষাবধি আপত্তি প্রত্যাহারও করেন, তার পরও বিজেপির আপত্তির মুখে ওই বিল পাস না-ও হতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, মমতার মতো বিজেপিও চায় না ‘ছিট’ হস্তান্তর হোক। ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল হস্তান্তর চুক্তিতে প্রথমে লিখিতভাবে সায় দিয়েও পরে আপত্তি তোলেন মমতা। এ কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাদেশ সরকার দ্রুত ওই চুক্তির রূপায়ণের জন্য নয়াদিল্লির ওপরে চাপ দিচ্ছে। ছিটমহলের বাসিন্দারাও কেন্দ্রের কাছে একই দাবি তুলেছেন। কিন্তু মমতার আপত্তির কথা ভেবে মনমোহন সরকারকে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মনমোহন সিং ও শেখ হাসিনার মধ্যে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে চুক্তি হয়। ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিলমোহরই যথেষ্ট হলেও ছিটমহল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু মমতার আপত্তিতে এখনও সংবিধান সংশোধনী বিলে অনুমোদন দিতে পারেনি কেন্দ্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করেই তার বাস্তবায়ন হবে। খবর দৈনিক যুগান্তরের।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশকে আশ্বাস দেয়া হয়, বাজেট অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হবে। কিন্তু মমতা ‘পশ্চিমবঙ্গের জমি’ বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে একেবারেই রাজি নন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বরে মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের আগে পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা রাজ্যগুলো থেকে এ বিষয়ে সম্মতি চাওয়া হয়েছিল। তখন মমতা সরকার লিখিত সম্মতি দিয়েছিল। তাই এখন মমতার আপত্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্ন তুলেছে।

ছিটমহল সমস্যার সমাধানে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। কিন্তু ভারত কথা রাখেনি। অন্যদিকে ছিটমহল বিনিময়ে বিজেপিও বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতার আপত্তি না থাকলেও বিজেপির বিরোধিতায় সরকারের পক্ষে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানো কঠিন। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, মমতা যদি আপত্তি না-ও করেন, তাহলেও এই সংবিধান সংশোধনী বিল সরকারের পক্ষে পাস করানো কঠিন। কারণ বিজেপিও ছিটমহল হস্তান্তর চুক্তির বিরোধিতা করছে। সংবিধান সংশোধন করতে গেলে সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। রাজ্যসভায় এমনিতেই সরকার সংখ্যালঘু।

ফলে চিদাম্বরম মুখে যা-ই বলুন, প্রধান শরিক দল ও প্রধান বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সেখানে ছিটমহল হস্তান্তর চুক্তি পাস করানো সরকারের পক্ষে কঠিন হবে। বিজেপির দাবি, বাংলাদেশের মধ্যে যেসব ভারতীয় ‘ছিট’ রয়েছে, তার বাসিন্দাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্বই নিতে হবে। কোনভাবেই তাদের ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সুযোগ দেয়া চলবে না। কারণ সে ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ বাড়বে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী, ছিটমহলের বাসিন্দারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

এখন বাকিটা নির্ভর করছে কেন্দ্রীর সরকারের ওপর। তারা কি করেন এখন সেটিই চেয়ে দেখতে হবে বাংলাদেশকে।

Advertisements
Loading...