বাড়ছেই এলপি গ্যাসের দাম ॥ সরকারের কোনই মাথাব্যাথা নেই!

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ এলপি গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষদের নাভিশ্বাস অবস্থা দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সামপ্রতিক সময়ে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় এই গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। গত বাজেটে এলপি গ্যাসের দাম কমানোর কথা থাকলেও, কমাতো দুরের কথা একাধারে দাম বাড়ছেই। অবস্থা দৃষ্টে যা মনে হয় তাতে দেখা যায়, সরকারের কোনই নিয়ন্ত্রণ নেই এই সেক্টরে। তানাহলে একের পর এক দাম বাড়ছেই।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, লাগামহীনভাবে সারাদেশে বেড়েই চলছে তরল পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের দাম। গত দুই মাসে এলপি গ্যাসের দাম বেড়েছে তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ টাকা। প্রতিনিয়ত দাম বৃদ্ধি পেলেও কোন লাগাম নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, এলপি গ্যাসের কোম্পানিগুলো কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দাম বাড়াচ্ছে, আর অন্যদিকে সরকার এ বিষয়ে শুধু বাক্য ব্যয় ছাড়া আর কোন উদ্যোগই নিচ্ছে না। ফলে এই খাতে তৈরি হয়েছে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, এ নিয়ে কোন প্রতিবাদ করা হলে উল্টো কথা শুনতে হয়। এছাড়া চাহিদামত সরকারি এলপি গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় ব্যবহারকারীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি দাম নিচ্ছে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এলপি গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি মাসে টন প্রতি এক হাজার ৪শ’ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর এর কারণ দেখিয়ে দেশীয় আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলপিজির দাম কমানো এবং তা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে চলতি বছরের বাজেটে এলপিজির আমদানি শুল্ক রহিত করেছে সরকার। কিন্তু এরপরও এলপিজি সহজলভ্য হয়নি, বরং গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশে প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম স্থানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর চলতি মাসে বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এলপিজি বোতলজাত করার কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি কম। চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এগুচ্ছে না। অথচ বিপিসি গত বছরের জুলাই মাসে আগ্রহী কোম্পানির কাছ থেকে আগ্রহপত্র নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বগুড়া ঃ বগুড়াসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সরকারি এলপি গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো এর বাজার দখল করে ফেলেছে। এ সুযোগে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। অসাধু ডিলাররা সরবরাহ নেই এ অজুহাতে সরকারি গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ আদায় করছেন। কম দরে সরকারি গ্যাস পেতে জনগণ ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন। অতিরিক্ত দরে গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তারা এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রাজশাহী ঃ রাজশাহী বিভাগীয় এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সূত্র জানায়, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রায় ৫০০ ডিলার রয়েছে। প্রতি মাসে কমপক্ষে চাহিদা ১ লাখ সিলিন্ডার গ্যাস। কিন্তু বিপিসির তিন কোম্পানি সরবরাহ দিচ্ছে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সিলিন্ডার। বগুড়ায় ডিলার আছেন ১৫৫ জন। এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের ২৫ হাজারের অধিক সংযোগ থাকলেও এলপি গ্যাসের চাহিদা কমপক্ষে ৮ হাজার। ডিলাররা অর্ধেকও ঠিকমত পাচ্ছেন না। রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি ডিপোর মেঘনা থেকে এবং বগুড়াসহ অবশিষ্ট ১৩ জেলা বগুড়ার শহরতলীর লিচুতলার পদ্মা ও যমুনার ডিপো থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে। সরকারি গ্যাসের সরবরাহ কম হলেও এ গ্যাস শুধু গৃহস্থালী কাজে নয়, বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে সিট কাটাসহ নানা কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আবার এলপি গ্যাস দিয়েও কোন কোন জেলায় গাড়ি চালানো হয়ে থাকে।

গত দু’মাসে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের খুচরা মূল্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে যমুনা গ্যাসের প্রতি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩২৭ থাকলেও এখন হয়েছে ১ হাজার ৫০২ টাকা। বসুন্ধরা ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৬০০, ক্লিনহিট গ্যাস এক হাজার ৩৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২০ টাকা ও টোটাল গ্যাস এক হাজার ৩৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৮০ টাকা করা হয়েছে। ডিলাররা যমুনা প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ টাকা, বসুন্ধরা এক হাজার ৭০০ টাকা, ক্লিনহিট এক হাজার ৭০০ টাকা ও টোটাল এক হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। এলাকাভেদে এ দাম বেশিও নেয়া হয়ে থাকে।

এই অবস্থা চলতে পারে না। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দেশে এলপি গ্যাসের যে সংকট এবং মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে তার একটি সহজ সমাধান বের করবেন। সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এক্ষেত্রে জরুরি হয়ে পড়েছে।

Advertisements
Loading...