বাড়ির মতো করে তৈরি এক বিচিত্র কারাগারের গল্প!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অপরাধীরা যাতে সত্যিকারভাবে সংশোধন হয় সেজন্য তৈরি করা হয়েছে ঠিক বাড়ির মতো করেই কারাগার! অভিনব এই কাজটি করা হয়েছে নেদারল্যান্ডে।

weirdest stories of prison

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, অপরাধের মাত্রা কমানোর উদ্দেশ্যই নেদারল্যান্ড এক অভিনব পন্থা গ্রহণ করেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ হতে হারলেমে অবস্থিত সাবেক ডি কোয়েপেল নামে একটি কারাগারকে শরণার্থীদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা যায়, ১৮৮০ সালে এই কারাগারটি তৈরি করা হয়। গম্বুজাকৃতির ছাদবিশিষ্ট ভবনটি নিয়ে গ্যালারি সমৃদ্ধ ওই কারাগারটির সূচনা হয় তৎকালীন সময় হতেই। সেসময় দেশের সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধীদের এই কারাগারে অন্তরীণ রাখা হতো। সেসময় এই কারাগারে ফাঁসির মতো অমানবিক ব্যবস্থাগুলো চালু ছিল। তবে বর্তমানে সেখানে এসব ব্যবস্থা নেই।

বর্তমানে ওই কারাগারে প্রায় চার শতাধিক শরণার্থী আশ্রয় গ্রহণ করেছে। কারাগারের বর্তমান কর্মচারীরা ওই শরণার্থীদের নিয়িমিত সেবা দিয়ে আসছেন। তবে কারাগার খালি করে দিয়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে- এমনটি নয়। কারাগারের কয়েদিরা যেখানে থাকার ঠিক সেখানেই রয়েছেন। তাদের সঙ্গেই রয়েছেন শরণার্থীরা।

আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা যাতে করে এই শিবিরে নিজেদেরকে বন্দী না ভাবেন, সেজন্য কারাগারের সকল দরজা সবসময় খোলা রাখা হয়। তবে এই দরজা খোলা রাখার পরেও নাকি কোনো কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড নেই!

ওই কারাগারের কয়েদি ও শরণার্থীদের এতোটাই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যে, তারা চাইলে দিনের যেকোনো সময় বাইরে যেতে পারেন আবার কয়েক রাত বাইরে কাটিয়ে আসতে পারেন! বলা যায়, অনেকটা বাড়ির মতোই ব্যাপার পুরো কারাগার জুড়ে!

ওই কারাগারে অবস্থান করা শরণার্থীরা অনেকেই বিভিন্ন দেশ হতে আসা। এখানকার স্বেচ্ছাসেবীরা স্বইচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই ওই শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন।
ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে শরণার্থী বিষয়ক কর্মকর্তা জ্যানেট হেল্ডারের ধারণা, ‘কারাগারে দরজা ব্যবহার করার আগে আমাদের দুইবার চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের অনেকেই জিজ্ঞেস করেন যে, কিভাবে আমরা সিরিয়া হতে আসা মানুষদের সঙ্গে কাজ করছি, যারা আমাদের এখানে আসছে তারা ইচ্ছা করলে সিরিয়ার কারাগারেও থাকতে পারতো। তবে সমস্যা হলো, আমাদের পদ্ধতি একেবারে ভিন্ন। সমস্যা যদি কোথাও থেকেই থাকে, তাহলে সেটা আমরা খুঁজে বের করবোই!’

আসলেও তাই। কারাগারের নিয়ম-কানুন দেখেই বোঝা যায় সেখানে কতোটা স্বাধীনতা রয়েছে এবং তাই মানুষ বাইরে গিয়েও আবার কারাগারে ফেরত আসেন! সত্যিই বড়ই বিচিত্র এই কারাগারটি!

Advertisements
Loading...