বিপিও খাতে প্রতিবছর দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে : সজীব ওয়াজেদ জয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিপিও খাতে প্রতিবছর দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

BPO

রাজধানীতে দু’দিনব্যাপী শুরু হওয়া বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ-২০১৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)-এর উদ্যোগে দু’দিনের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দু’দিনের আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় বিপিও সম্মেলন আয়োজন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। গত ৭ বছরে প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, যা কিনা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন না হলে- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে না। সে কারণে এবারের বিপিও সামিটের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে, স্থানীয় অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক ব্যবসা।’

সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা এখন গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বসেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, অর্থাৎ আমরা বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রযুক্তিবিদ তৈরি করতে পেরেছি। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) খাতে ২ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৬ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার জন্য দেশের স্কুলগুলোতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ কম্পিউটার ল্যাব গড়ে তোলা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩ হাজারের বেশি কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা হয়েছে।’

তিনি পাঠ্যবই নিয়ে বলেন, ‘স্কুলগুলোতে ছাপা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ওয়েবসাইটে এসব বইয়ের পিডিএফ সংস্করণ পাওয়া যায়। খুব শীঘ্রই আমরা পাঠ্যবইগুলোর ই-বুক সংস্করণ নিয়ে আসতে যাচ্ছি। অর্থাৎ শুধু পিডিএফ নয়, সত্যিকারের ইলেকট্রনিক সংস্করণ তৈরি করা হবে পাঠ্যবইয়ের।’

বিপিও ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যত লক্ষ্য সম্পর্কে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘২০১৮ সালে বাংলাদেশ হতে তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’

উদ্বোধন ওই অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) মহাপরিচালক হাওলিন ঝাও। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি- সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)-এর সভাপতি আহমাদুল হক।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তাঁর বলেন, ‘বিশ্বের যেসব দেশ বিপিও খাতে ভালো করছে, তারা সবাই নিজেদের অভ্যন্তরীণ খাতের বিপিওকে শক্তিশালী করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কলসেন্টারগুলোর একটা বড় অংশই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে। বৈশ্বিক পর্যায়েও আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।’

Advertisements
Loading...