মৃত ব্যক্তির নামে কী কোরবানি দেওয়া জায়েজ?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কোরবানির ঈদ এলে কোরবানি দিতে গিয়ে নানা রকম প্রশ্ন জাগে। যেমন মৃত ব্যক্তির নামে কী কোরবানি দেওয়া জায়েজ? এই প্রশ্নও জাগে। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিষয়টি।

sacrificeফাইল ফটো

মুসলমানদের ধর্মীয় বড় অনুষ্ঠানের একটি হলো ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ। কোরবানি ঈদ এলে আমাদের মনে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। যেমন মৃত ব্যক্তির নামে কী কোরবানি দেওয়া জায়েজ? এই প্রশ্নও জাগে। আজ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

একেবারে দ্বারপ্রান্তে পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদের নামাজ শেষ করে আমরা কোরবানি করে থাকি। নামাজের পর শুরু হয় পশু কোরবানি করা। মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করা জায়েজ কিনা বা কাদের নামে কোরবানি করা জায়েজ-এই বিষয়ে জ্ঞান থাকাটা খুবই জরুরি।

sacrifice-2ফাইল ফটো

মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে কোরবানি করা জায়েয। তবে যদি মৃত ব্যক্তি ওসিয়ত না করে থাকে তাহলে কোরবানিটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতোই সেটি নিজেরাও খেতে পারবে। আবার আত্মীয়-স্বজনকেও দেওয়া যাবে। তবে যদি মৃত ব্যক্তি কোরবানির জন্য ওসিয়ত করে গিয়ে থাকেন তাহলে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। সেক্ষেত্রে গোশত গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। [মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫২]

এক ব্যক্তির প্রশ্ন ছিলো প্রতিবছর তাদের ৬ ভাই একটি গরু কোরবানি করে থাকেন। একটি গরুতে যেহেতু ৭ জন শরিক হতে পারে তাই এবার তারা পশুর ৭ম ভাগটি ইছালে ছওয়াবের উদ্দেশে মৃত পিতার পক্ষ হতে কোরবানি দিতে চেয়েছেন। এভাবে মৃত পিতার পক্ষ হতে কোরবানি করলে তা কী সহীহ হবে? বা ওই ভাগের গোশত কী তারা খেতে পারবে?

এর উত্তর হলো হ্যাঁ, ৬ জন মিলে ৭ম অংশ পিতার পক্ষ হতে কোরবানি করলে তা সহীহ হবে এবং তারা ওই ভাগের গোশত খেতে পারবেন। তবে এই পদ্ধতি অবশ্য উত্তম পদ্ধতি নয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হলো, সবাই মিলে এক অংশের টাকা এক ভাইকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। তখন ওই ভাই পিতার পক্ষ হতে কোরবানি করবে। এতে করে এটি নিয়মসম্মত হবে ও সকলে সওয়াবও পেয়ে যাবেন। এই অবস্থায়ও মৃত পিতার পক্ষ হতে দেওয়া ভাগের গোশত কোরবানিদাতার হবে। সে তা নিজেও খেতে পারবেন, আবার সদকাও করতে পারবে। আবার অন্য শরিককে হাদিয়াও দিতে পারবে। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ১৮৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৮]

মন্তব্য

Loading...