পুলিশ বিদ্রোহ ও গণবিক্ষোভের মুখে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নাশিদের পদত্যাগ

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও পুলিশ সদস্যদের বিদ্রোহের মুখে ৭ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন। ইতিমধ্যে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওয়াহেদ হাসান মানিক। এর পরপরই প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে দেয়া বিবৃতিতে দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ বিদ্রোহে রূপ নিলে বাধ্য হয়ে টেলিভিশন ভাষণে নাশিদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জাতির উদ্দেশে বলেন, আমি কঠোর হাতে দেশ পরিচালনা করতে চাই না। সেটি করা হলে তা বহু নাগরিকের ক্ষতির কারণ হবে। এ পরিস্থিতিতে আমি মনে করি, আমার সরে দাঁড়ানোই দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। তাই আমি পদত্যাগ করছি। পরে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওয়াহেদের কাছে ক্ষমতা বুঝিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মালদ্বীপে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমকে হারিয়ে নির্বাচিত হন নাশিদ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বলিষ্ঠ বক্তব্য দিয়ে তিনি দ্রুত পরিচিতি পান।
নাশিদের পূর্বসূরি গাইয়ুম টানা ৩০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। সে সময় গণতান্ত্রিক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য ২৭ বার গ্রেফতার হন নাশিদ। এর মধ্যে একবার ছয় বছর কারাবন্দিও ছিলেন নাশিদ। গণরোষ কি জিনিস তা আবারও প্রমাণিত হলো।
সরকারের নির্দেশে জানুয়ারিতে এক জ্যেষ্ঠ বিচারক গ্রেফতার হওয়ার পর নাশিদের বিরুদ্ধেও পূর্বসূরি মামুন আবদুল গাইয়ুমের মতো স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই মামুন আবদুল গাইয়ুমের সমর্থকরা রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করে।
সোমবার পুলিশ বাহিনীর একটি অংশ বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানালে আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান প্রচার করে। মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারী পুলিশ ও জনতা রিপাবলিক স্কয়ারে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের সদর দফতর অবরোধ করলে বিদ্রোহী পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর কিছুসংখ্যক সদস্যও সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় নাশিদের সরকার বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দিলে পুলিশ তা অমান্য করে বিদ্রোহ করে। ওই সময় জাতীয় নিরাপত্তা সদর দফতরেই অবস্থান করছিলেন নাশিদ। সেনাবাহিনীর ওপর তার নিয়ন্ত্রণও ছিল।
গাইয়ুমের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট চালানো হলে বহু মানুষ আহত হয়। তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাসও ছুড়ে সেনা সদস্যরা। তবে সরকারের মুখপাত্র রাবার বুলেট ছোড়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
মোহাম্মদ নাশিদের পদত্যাগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে প্রগ্রেসিভ পার্টি। পার্টির সদস্য ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের মেয়ে এবং দুনাইয়া মামুন নাশিদের পদত্যাগের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে একে দেশের জন্য মঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নাশিদ এখন সেনা হেফাজতে আছেন।
পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতির দেশ মালদ্বীপে প্রতিবছর প্রায় ৯ লাখ পর্যটক সমাগম হয়। সম্পূর্ণ ইসলামিক রাষ্ট্র মালদ্বীপের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিনোদনের সব ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও মূল ভূখণ্ডে রক্ষণশীল জীবনযাপন করে দেশটির নাগরিকরা। তবে তিন সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চললেও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকরা এর কোনো আঁচই পাননি।

Advertisements
Loading...