জাতিসংঘে বাংলাদেশের নাজবিন খানের কৃতিত্ব!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের সওগাত নাজবিন খান স্থান পেলেন জাতিসংঘের ১৭ তরুণ নেতার তালিকায়। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি-এর সমর্থনে কাজ করছেন এমন ১৭ তরুণ নেতার নাম সম্প্রতি ঘোষণা করেছে বৈশ্বিক এই সংস্থাটি।

najbin

জানা যায়, জাতিসংঘ ঘোষিত সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি)-এর সমর্থনে নিরলসভাবে কাজ করছেন সম্প্রতি এমন ১৭ তরুণ নেতার নাম ঘোষণা করেছে বৈশ্বিক এই সংস্থাটি। এই তালিকায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশী সওগাত নাজবিন খান।

এসডিজি-কে বৈশ্বিক উন্নয়নের ‘ব্লু প্রিন্ট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে ১৭টি মৌলিক বৈশ্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব লক্ষ্যকে মোট ১৬৯টি ক্ষুদ্র লক্ষ্যে ভাগ করা হয়। দারিদ্র বিমোচন, জেন্ডার বৈষম্য হতে শুরু করে দূষণমুক্ত জ্বালানি সবই রয়েছে ওই লক্ষ্যের মধ্যে।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের উদ্বৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, এইসব তরুণ নেতারা ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে বেশ কয়েকটি হাই-লেভেল বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা জাতিসংঘ এবং তার মিত্রদের বিভিন্ন প্রকল্পেও অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১৮৬ দেশ হতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৮ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। যাদের বয়স ছিল ১৯ হতে ৩০ বছর। এদের মধ্য হতে এসডিজি-র ১৭টি মৌলিক লক্ষ্যে অবদান রাখার জন্য ১৭ জন তরুণকে বাছাইয়ের মাধ্যমে সিলেক্ট করা হয়।

সংবাদ মাধ্যমকে জাতিসংঘ মহাসচিবের যুব বিষয়ক প্রতিনিধি আহমদ আলহেনদাওই বলেছেন, ‘আমরা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, এই তরুণ বিশ্ব নাগরিক দলটি তাদের সম্প্রদায়ের অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে।’ তিনি আরও বলেন যে, ‘এই তরুণরাই এসডিজি-র লক্ষ্য অর্জনের মধ্যদিয়ে বিশ্বকে আমূল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

ইতিপূর্বে কমনওয়েলথ যুব পুরস্কারও জিতেছিলেন সওগাত নাজবিন খান। কমনওয়েলথভুক্ত ৫৩টি দেশের মধ্য হতে মাত্র ৪ জন জিতেছেন ‘কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস ২০১৬’। সওগাত নাজবিন খান নির্বাচিত হন ‘কমনওয়েলথ এশিয়া ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ২০১৬’।

নাজবিন ওই পুরস্কার জিতেছেন সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য। এবারও একই অবদানের জন্য তিনি ১৭ তরুণ নেতার তালিকায় স্থান পান।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহের মেয়ে সওগাত নাজবিন খান নাজবিন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ হতে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) হতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অনার্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয় হতে দূষণমুক্ত জ্বালানি (গ্রিন এনার্জি) বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ময়মনসিংহে এইচ এ ডিজিটাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন, যেখানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছেলে-মেয়েদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা পড়ানো হয়ে থাকে। ৩৩৬ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীকে নাজবিন শিক্ষার সংস্পর্শে আনতে সক্ষম হন।

জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭ তরুণ নেতাদের তালিকা:

সওগাত নাজবিন খান (বাংলাদেশ)
অঙ্কিত কাওয়াত্রা (ভারত)
তৃষা শেট্টি (ভারত)
রিটা কিমানি (কেনিয়া)
অ্যান্থনি ফোর্ড-শুব্রুক (ব্রিটেন)
রেইনিয়ার ম্যালোল (ডমিনিকান রিপাবলিক)
ইদ্দা হামার (আইসল্যান্ড/অস্ট্রেলিয়া)
ভিনসেন্ট লোকা (ইন্দোনেশিয়া)
সামার সামির মেজঘান্নি (তিউনিশিয়া/ইরাক)
লুতফি ফাদিল লোকমান (মালয়েশিয়া)
ক্যারোলিনা মেদিনা (কলম্বিয়া)
জ্যাক হরোইটজ (যুক্তরাষ্ট্র)
করণ জেরাথ (যুক্তরাষ্ট্র)
স্যামুয়েল মালিঙ্গা (উগান্ডা)
সাফাথ আহমেদ জহীর (মালদ্বীপ)
নিক্কি ফ্রেজার (কানাডা)
টেরে গনজালেজ গার্সিয়া (মেক্সিকো)।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...