মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরীর তীরে বাবা আদম মসজিদ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০১৬ খৃস্টাব্দ, ২২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ৫ মহররম ১৪৩৮ হিজরি। দি ঢাকা টাইমস্ -এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ সকাল। আজ যাদের জন্মদিন তাদের সকলকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা- শুভ জন্মদিন।

baba-adams-mosque

যে ছবিটি দেখছেন সেটি মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরীর তীরে অবস্থিত বাবা আদম মসজিদের ছবি।

বাবা আদম সৌদি আরবের মক্কা নগরীর অদূরে তায়েফে ১০৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে আধ্যাত্মিক জ্ঞান সাধনার জন্য বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর সাহচার্য পেতে বর্তমান ইরাকের বাগদাদে আসেন।

সুদূর আরবে জন্মগ্রহণ করা সত্বেও তিনি ভারত উপমহাদেশে আসেন শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য।

১১৭৮ সালে সেন শাসন আমলে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরীর তীরে অবস্থিত মিরকাদিম এ আসেন। তখন বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জ চলছিল সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের রাজত্ব। বল্লাল সেনের হাতে তিনি একই বছর শহীদ হন।

হিজরী ৮৮৮ তথা ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় এই বাবা আদম মসজিদ। মসজিদ নির্মাণে ৪ বৎসর সময় লাগে।

বাবা আদম মসজিদটির ছাদে রয়েছে ৬টি গম্বুজ। উত্তর-দক্ষিণে মসজিদটির দৈর্ঘ্যে ৪৩ ফুট। আর প্রস্থে ৩৬ ফুট। মসজিদটির দেওয়াল লাল পোড়ামাটির ইটে নির্মিত যা প্রায় ৪ ফুট প্রশস্ত। ইটের আকার ১০ ইঞ্চি, ৭ ইঞ্চি, ৬ ইঞ্চি এবং ৫ ইঞ্চি। সম্মুখভাগে ৩টি খিলানাকৃতির প্রবেশপথ রয়েছে যার মাঝেরটি বর্তমানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অভ্যন্তরভাগে পশ্চিম দেওয়ালে ৩টি মেহরাব রয়েছে। পূর্ব দেওয়ালে রয়েছে আরবি লিপিতে উৎকীর্ণ একটি শিলাফলক।

১৯০৯ সালে ভারতবর্ষের প্রত্নতত্ত্ব জরিপ বিভাগ একবার এই মসজিদটি সংস্কার করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে এরপর আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।

১৯৯১ সালে লোহার একটি সীমানা বেড়া দেয় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

ছবি: www.panoramio.com এর সৌজন্যে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...