৪ বছরের বাংলাদেশী ‘বিস্ময় শিশু’ ও ওবামার চিঠি! [ভিডিও]

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত চার বছর বয়সী শিশু সুবর্ণ আইজ্যাক বারী। ইতিমধ্যে তাকে ‘বিস্ময় শিশু’ বা ‘খুদে আইনস্টাইন’ নামে ডাকা হচ্ছে!

4-year-old-bangladeshi-wonder-child

কী করেছে এই খুদে বিস্ময় শিশু? এই শিশুর কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে গত ২ নভেম্বর তাকে একটি চিঠি লিখেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সুবর্ণর জন্ম ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল। সুবর্ণ তার বাবার ল্যাবরেটরিতে যাচ্ছে ও অঙ্কশাস্ত্র ছাড়াও রসায়নের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছে।

চিঠিতে বারাক ওবামা লিখেছেন যে, ‘প্রিয় সুবর্ণ, আশা করছি তুমি তোমার কঠোর পরিশ্রম ও অর্জনের জন্য গর্ব অনুভব করো। তোমার মতো শিক্ষার্থী আমেরিকায় আরও দরকার, যারা স্কুলে কঠোর পরিশ্রম করার চেষ্টা করে, বড় স্বপ্ন দেখে ও আমাদের সমাজের পরিবর্তন ঘটায়। আমাদের দেশ অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তবে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, তাহলে এসব মোকাবিলা করা কোনো ব্যাপারই হবে না। তুমি তোমার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও, আমি তোমার সঙ্গে আছি। তোমার কাছে আমি অনেক বড় কিছু প্রত্যাশা করছি।’

সুবর্ণর বয়স যখন মাত্র দেড় বছর, তখনই রসায়নের পর্যায় সারণি তথা কেমিস্ট্রি পিরিয়ডিক টেবিল মুখস্থ করে ফেলে সে। তার বয়স যখন তিন বছর তখনই সে লেবুর সাহায্যে ব্যাটারি এক্সপেরিমেন্ট করে। সাড়ে তিন বছর বয়সে বিখ্যাত একটি কলেজের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পায়। ইতিমধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছে ভয়েস অব আমেরিকাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও!

মাত্র চার বছর বয়সী শিশুর ছোটবেলা আসলে কোনটি। তবু বলা হচ্ছে, তখন সে খুব ছোট ছিল। নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালের বেডে জ্বরে কাতরাচ্ছিল সে। তার বাবা রাশীদুল বারী বলেন, ‘আই লাভ ইউ মোর দ্যান এনিথিং ইন দ্য ইউনিভার্স।’ সুবর্ণ তার বাবাকে পাল্টা প্রশ্ন করে, ‘ইউনিভার্স অর মাল্টিভার্স?’

এমন কথা শুনে তার বাবা চমকে যান। তখনও তিনি জানতেন না সুবর্ণ তিন বছর বয়সে অঙ্ক, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে দক্ষতা দেখিয়ে গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে সুবর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হইচই ফেলে দিয়েছে। সুবর্ণ এখনও স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি। তবে ইতিমধ্যে জ্যামিতি, বীজগণিতসহ রসায়নের জটিল বিষয়ের সহজ সমাধান দিচ্ছে সে!

মাত্র দেড় বছর বয়সে রসায়নের পর্যায় সারণির গল্প শুনিয়েছেন তারই বাবা রাশিদুল বারী। তিনি জানিয়েছেন, ওর মা ওকে অঙ্ক শেখাচ্ছিলেন। হঠাৎ সুবর্ণ বললো, ‘ইফ ওয়ান প্লাস ওয়ান ইকুয়াল টু টু, দ্যান টু প্লাস টু ইকুয়াল টু ফোর ও এন+এন ইকুয়াল টু টুএন, তাই না?’ রাশীদুল বারী তখন পাশের রুমে তাঁর ছাত্রদের পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন।

ছেলের এমন প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে রাশীদুল বারী তাকে অ্যাডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স শেখাতে শুরু করেন। এভাবেই মাত্র দুই বছর বয়সে সে রসায়নের পিরিয়ডিক টেবিল মুখস্থ করে ফেললো। এই অবিশ্বাস্য কথাটি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এই বিস্ময়কর শিশুর প্রতিভার কথা জানতে পারেন মেডগার এভার্স কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড পোজম্যান। তিনি সুবর্ণর মেধা যাচাই করতে চান। সুবর্ণ পর্যায় সারণির সব এলিমেন্ট বলে পোজম্যানকে সত্যিই অবাক করে দেয়। সেদিন তিনি এতোই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, এক বছর পর অর্থাৎ গত বছরের ২৫ নভেম্বর আবার তাকে ডেকে পাঠান পোজম্যান।

এরপর ডাক পড়ে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ হতে। তার বাবা বারী তাকে নিয়ে যান ওয়াশিংটন ডিসিতে ভয়েস অব আমেরিকা স্টুডিওতে। সেখানে সাবরিনা চোধুরী ডোনা তার ইন্টারভিউ নেন ও বছরের সেরা কনিষ্ঠ ইন্টারভিউ হিসেবে তাঁরা এটা বাছাই করে ইংরেজি নববর্ষে পুনঃপ্রচার করে।

জানা গেছে, সুবর্ণর বাবা রাশেদুল বারীর বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য নিউ ইয়র্কে আসার পর ব্রংকসের লিমন কলেজে অধ্যয়ন করেন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির বারুখ কলেজে অঙ্কের অ্যাডজাংকট অধ্যাপক। সেইসঙ্গে নিউভিশন চার্টার হাই স্কুল ফর অ্যাডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্সে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। জেরুজালেম পোস্টে তিনি নিয়মিত কলামও লিখছেন।

অপরদিকে সুবর্ণর মা রেমন বারী ব্রংকস কমিউনিটি কলেজ হতে অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। সুবর্ণর একমাত্র বড় ভাই রিফাত আলবার্ট বারীর বয়স ১২ বছর। সেও এক অসাধারণ মেধার অধিকারী। সপ্তম গ্রেডে পড়ছে। সাতটি ভাষায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে অভ্যস্ত। তাই সে হাই স্কুলে না গিয়েই বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চায়। এজন্য সে ইতিমধ্যে তিনবার এসএটি প্রদান করেছে। তথ্যসূত্র: http://dailymoonbd.com/

দেখুন ভিডিওটি

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...