লাদেনকে নিয়ে আবার বিতর্ক ॥ স্ট্রাটফরের ইমেইল ॥ লাদেনকে সাগরে দাফন করা হয়নি!

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ লাদেনের বিষয়গুলো মানুষের মধ্যে অনেকটাই স্থিমিত হয়ে আসছিল। কিন্তু আবারও খবরের খবর হয়ে উঠেছে লাদেন। জীবিত থাকতে যেমন ছিল মৃত্যুর পরও ঠিক তেমনিভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ওসামা বিন লাদেন।

খবর বেরিয়েছে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে উত্তর আরব সাগরে ডুবিয়ে দেয়া হয়নি। দাফনের জন্য তার মরদেহ কঠোর গোপনীয়তায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর সেখানকার মেরিল্যান্ডে গোপন একটি স্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক ফোরকাস্টিং ইনকর্পোরেশনের (স্ট্রাটফর) ইমেইল থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ অ্যানোনিমাস সম্প্রতি স্ট্রাটফরের ২৭ লাখের বেশি ইমেইল হ্যাক করে। বিশ্বজুড়ে সাড়াজাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত সপ্তাহ থেকে তা ফাঁস করতে শুরু করেছে। গত বছরের ২ মে মার্কিন বিশেষ বাহিনী সিল ওসামা বিন লাদেনকে তার অ্যাবোটাবাদের বাড়িতে গুলি করে হত্যা করে। এরপর মার্কিন রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনশনে তার মরদেহ তুলে নিয়ে উত্তর আরব সাগরে ইসলামী রীতিতে ডুবিয়ে দেয়া (দাফন করা) হয় বলে জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। কিন্তু হোয়াইট হাউসের এ বক্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্ট্রাটফরের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (গোয়েন্দা বিভাগ) ফ্রেড বার্টন। আর সেটি নিছক সন্দেহ নয়। তার কাছে আসা বেশ কিছু ইমেইলের ভিত্তিতে তিনি অনেকটাই নিশ্চিত যে, লাদেনের দাফনের ক্ষেত্রে মার্কিন বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। এ নিয়ে একটি ই-মেইলে তিনি মন্তব্য করেছেন, লাদেনের মরদেহ সিআইয়ের দোভেরগামী (দেলাওয়ার) প্লেনে করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে আর্মড ফোর্সেস ইন্সটিটিউট অব প্যাথলজিতে নেয়া হয়। সেখানেই অথবা এর পার্শ্ববর্তী গোপন কোন স্থানে লাদেনকে দাফন করা হয়েছে।

এ ঘটনার সাড়ে চার মাস পর ১৫ সেপ্টেম্বর ওই ইন্সটিটিউটটি এবং লাদেনের দাফন প্রশ্নে আলোচনার ইতি টানার কথাও তুলেছিলেন ফ্রেড। ফ্রেড বার্টনের আরেকটি ইমেইলেও লাদেনের মৃত্যু প্রশ্নে মার্কিন দাবির প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তাতে ফ্রেড লিখেন, আর যদি তার (লাদেনের) দেহ সাগরেই ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে (যা নিয়ে আমি সন্ধিহান) তাহলে তাকে নিশ্চয়ই এডোলফ ইচম্যানের পরিণতিই ভোগ করতে হয়েছে। [দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যক্তিত্ব যুদ্ধের পর মার্কিন বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। কিন্তু মার্কিন বাহিনী তাকে ছদ্ম নাম দিয়ে ছেড়ে দেয়। ‘মানবিক পাসপোর্ট’ নিয়ে প্রথমে ইতালি ও পরে আর্জেন্টিনা উড়াল দেন তিনি। সেখানে ১৯৬২ সালে ইসরাইলি গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়লে তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। পরে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পর তার মরদেহ পুড়িয়ে ছাই ভূ-মধ্যসাগরে ফেলে দেয়া হয়।] ফ্রেড বার্টনের এসব ইমেইল ওসামা বিন লাদেনের দাফন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। হত্যার পর বিন লাদেনকে উত্তর আরব সাগরে ইসলামী রীতিতে দাফন করা হয়েছে, নাকি পুড়িয়ে তার ছাই সাগরে ফেলা হয়েছে তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। স্ট্রাটফরকে মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর ছায়া প্রতিষ্ঠান মনে করা হয়ে থাকে। ইমেইলগুলো ফাঁসের ঘোষণা দেয়ার পর স্ট্রাটফরের সিইও জর্জ ফ্রেইডম্যান সেগুলোকে ‘জাল’ বলে দাবি করেন। তবে ডিসেম্বরে দু’দফা হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছিলেন অ্যানোনিমাস তাদের মেইল হ্যাক করেছে। ডেইলি মেইল/রয়টার্স অবলম্বনে দৈনিক যুগান্তর।

Advertisements
Loading...