বাংলাদেশী প্রকৌশলীর আবিষ্কৃত ‘বোল্ট’ বিদ্যুৎ-চালিত সেরা গাড়ির জন্য পুরস্কৃত

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ-চালিত সেরা গাড়ির জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। এই বাংলাদেশী প্রকৌশলীর আবিষ্কৃত ‘বোল্ট’- ‌‘কার অব দ্য ইয়ার ২০১৭’ নির্বাচিত হয়েছে।

বাংলাদেশী প্রকৌশলীর নয়া প্রযুক্তির শেভ্রোলেট ‘বোল্ট’ উত্তর আমেরিকার (২০১৭) সেরা গাড়ি নির্বাচিত হয়েছে। জেনারেল মোটরসের বোল্ট পুরোপুরি বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি। এই গাড়ি একবার চার্জ করলে ২৩৮ মাইল (৩৮৩ কিলোমিটার) চলতে পারবেন। বর্তমানে ইলেকট্রিক গাড়ির জগতে এতো কম মূল্যে এতো দূরত্বের রেকর্ড ইতিপূর্বে কোনো গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ছুঁতে পারেনি। দামের দিক দিয়েও এই গাড়ি মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমার মধ্যে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৯ জানুয়ারি ডেট্রোয়েটে উত্তর আমেরিকা অটো শো হতে বোল্টের ‘কার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইতিপূর্বে বোল্ট ‘মোটর ট্রেন্ড কার অব দ্য ইয়ার’ এবং লস অ্যাঞ্জেলস অটো শোতে ‘গ্রিন কার অব দ্য ইয়ার’ টাইটেল পেয়েছে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত এ গাড়ির ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং লঞ্চে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী প্রকৌশলীরা কাজ করেছেন। তাদের এই আবদান উল্লেখ করার মতো। সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কারও জিতেছেন বাংলাদেশী প্রকৌশলীরা। মালিক হয়েছেন পেটেন্টের, যেটি গর্ব করার মতো।

জেনারেল মোটরসের টেকনিক্যাল ফেলো ড. খাজা রাহমান এবং ড. ফয়েজুল মোমেন যৌথভাবে কাজ করেছেন এই মোটর ডিজাইনে। ড. নাজমুল আনোয়ার এবং ড. সৈয়দ জাফরি আল কাদরী যৌথভাবে করেছেন পাওয়ার ইলেকট্রনিক ও ইনভার্টার ডিজাইনের কাজ। গাড়ি চার্জের টেস্ট ও ভেলিডেশনে ছিলেন করবী বাশার, মোহাম্মদ শহিদুল খান রুবেল এবং নিপা দে।

উল্লেখ্য, বর্তমান বাজারে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জার্মান কোম্পানির বিএমডব্লিউ আই-৩। এই গাড়িটি ফুল চার্জ দিলে চলে মাত্র ৮১ মাইল। দাম (কর বাদে) ৪৩ হাজার ৩০০ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মতো)।

বিএমডব্লিউ আই-৮ চলে মাত্র ২৫ মাইল। দাম (কর বাদে) ১ লাখ ৩৭ হাজার ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা)।

ইতালির ফিয়াট ৫০০–ই চলে ৮৪ মাইল। দাম (কর বাদে) ৩২ হাজার ৬০০ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২৬ লাখ টাকার মতো)।

ফোর্ড ফোকাস ইলেকট্রিক চলে মাত্র ১৯ মাইল। দাম (কর বাদে) ২৯ হাজার ২০০ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা)।

দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়া সউল চলে ৯৩ মাইল। দাম (কর বাদে) ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো)।

আর দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে নিশান লিফ। এটি চলে ১০৭ মাইল। দাম ২৯ হাজার ডলার। দ্বিতীয় টেস্লা মডেল এস। এটি চলে ১১৫ মাইল। তবে দাম ৭১ হাজার ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫৬ লাখ টাকার মতো)।

অপরদিকে শেভি বোল্ট চলে সবচেয়ে বেশি ২৩৮ মাইল। দাম ৩৭ হাজার ৫০০ ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় যা দাঁড়ােচ্ছে প্রায় ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা)। জানা গেছে, মার্কিন সরকার পরিবেশবান্ধব গাড়ির জন্য ৭ হাজার ৫০০ ডলার ভর্তুকিও দেবে।

Advertisements
Loading...