‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’ : দুই প্রকাশককে শাওনের লিগ্যাল নোটিস

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলি’ বইয়ের লেখক ও প্রকাশককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। নিউইর্য়কের মুক্তধারার স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিত সাহা এবং ঢাকার বাংলা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এই লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়েছে।

humaun ahmed-26-5-13

প্রয়াত জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুপূর্ব ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে অসত্য তথ্য রয়েছে এমন অভিযোগ এনে দুই প্রকাশককে লিগ্যাল নোটিস দিয়েছেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। শাওনের পক্ষে লিগ্যাল নোটিসটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ।

ওই নোটিসে ১৫ দিনের মধ্যে বাজার থেকে ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো’ শিরোনামে প্রকাশিত বইটি প্রত্যাহার, ধ্বংস এবং অসত্য বক্তব্য প্রকাশের কারণে শাওনের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্যথায় দুই প্রকাশকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এবং আমেরিকায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের গত ২২ মে কুরিয়ার সার্ভিসে এবং ২৫ মে ই-মেইলে নোটিসটি পাঠানো হয়েছে।

শাওনের লিগ্যাল নোটিসে বলা হয়, বইটির ৭১ ও ৮৮ নাম্বার পৃষ্ঠাসহ বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালের ১২ জুন অপারেশনের পর প্লাস্টিকের চেয়ার থেকে পড়ে যান হুমায়ূন আহমেদ। এরপর তার শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হয়। এ ঘটনার পর তাকে যখন হাসপাতালে নেয়া হয়, তখন চিকিৎসকের কাছে এ পড়ে যাওয়ার কথা গোপন করা হয়েছে। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হওয়ার এক পর্যায়ে ২১ জুন তিনি আর কথা বলতে পারেননি। বইয়ে লেখা ওই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য হুমায়ূন আহমেদের প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা একটি ছবি ছাপানো হয়েছে।

বইয়ের লেখার তথ্যগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে এ নোটিসে বলা হয়, বইয়ে প্রকাশিত এ বক্তব্য আদৌ সত্য নয়। এটা লেখার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শাওনের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ২১ জুন হুমায়ূন আহমেদ কথা বলতে পারেননি অভিযোগ সত্য নয়। ২১ জুনের পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদ চেয়ার থেকে পড়ে যাননি। প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা ছবিটি ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকায় স্যুটিংয়ের (জোৎস্না ও জননীর গল্প নাটকের স্যুটিং) সময়ে চেয়ারে বসে থাকার ছবি বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন/বাংলাদেশনিউজ২৪/সিটিজিটাইমস্‌

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...