বাংলাদেশের ৫০ ভাগ নারীই খাটো! এর কারণ কী?

দেশের ১৫ হতে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৪৪ শতাংশই খর্বাকৃতির

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমরা অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছি আর তা হলো বাংলাদেশের ৫০ ভাগ নারীই খাটো! কিন্তু কী কারণে এটি হয়ে থাকে তা আমাদের একেবারেই অজানা। আজ জানুন বিষয়টি।

এক তথ্যে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের মধ্যে খর্বাকৃতির হার অনেক বেশি। তবে বাংলাদেশের চিত্র এর একেবারেই উল্টো। এদেশের ১৫ হতে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৪৪ শতাংশই খর্বাকৃতির, অর্থাৎ মোট মোট নারীর প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই সংখ্যাটি এক-তৃতীয়াংশ।

সম্প্রতি শিশু বিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য প্রটেকশন অফ চিলড্রেন’ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ‘এন্ড অফ চাইল্ডহুড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন তৈরি করে। সেখানেই উঠে এসেছে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ওই প্রতিবেদনে ১৭২টি দেশের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান হলো ১৩৪ নম্বরে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৈশব মানেই শিশুরা নিরাপদ বোধ করবে, খেলবে ও শিখতে শিখতে বেড়ে উঠবে। কিন্তু বিশ্বের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শিশুর শৈশব হারিয়ে গেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৭০০ মিলিয়নেরও বেশি শিশু এমন সমাজে বসবাস করে, যেখানে তারা অন্য শিশুদের মতো স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সুবিধা পায় না। রোগ, অপুষ্টি, বোমা, বুলেট- এসব বিষয় শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, যেমন- দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলেকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে ওই অঞ্চলের কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। যে কারণে দেখা যায়, কয়েকটি দেশের প্রায় অর্ধেক কিশোরীই আকারের দিক দিয়ে ছোটখাটো।

সেভ দ্য চিলড্রেন আরও জানিয়েছে, শিশু যদি পর্যাপ্ত খাবার এবং পুষ্টি না পায়, সেক্ষেত্রে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি যথেষ্ট নাও হতে পারে। এই সংস্থাটি ১০টি দেশের একটি তালিকা তৈরি করে, যেখানে বিশ্বের মোট খর্বাকৃতি শিশু (৫ বছরের কমবয়সী শিশু) দুই-তৃতীয়াংশ বসবাস করে। এদেরমধ্যে আবার বাংলাদেশের অবস্থান হলো ৮ নম্বরে। বাংলাদেশের প্রায় ৫৫ লাখ শিশুর দৈহিক আকারই এমন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে ‘এন্ড অফ চাইল্ডহুড’ সূচক অনুযায়ী দেখা যায়, পশ্চিম এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকার শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। তালিকার একেবারে শেষ ১০টি দেশের ৭টিই ওই অঞ্চলে দেশ। ওই তালিকার শীর্ষে যৌথভাবে নরওয়ে ও স্লোভেনিয়া অবস্থান করছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...