জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

১৯৭৫ সালের আজকের এই দিন ১৫ আগস্ট ঘটেছিল এক ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। জাতি আজ শ্রদ্ধাভরে দিনটি পালন করছে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি।

১৯৭৫ সালের আজকের এই দিন ১৫ আগস্ট ঘটেছিল এক ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গের সদস্যদের নির্মমভাবে ঘাতকরা হত্যা করেছিল। আজ জাতীয় শোক দিবস। জাতি আজ যথাযোগ্য শ্রদ্ধাভরে এবং মর্যাদার সঙ্গে আজকের এই দিনটি পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি। আওয়ামীলীগসহ এর অঙ্গসংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আজকের এই দিনটিকে স্মরণ করে আলোচনা সভা, শোক র্যালি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা ছিল মানবাতার ইতিহাসে এক ঘৃণ্যতম অপরাধ । আদালতে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি ছিল একটি পুর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং ফৌজদারি আইনমতেই তাদের বিচার হয়েছে । কিছু আসামীর ফাঁসি হয়েছে আবার কিছু আসামী এখনও বিদেশে পলাতক রয়েছে। তাদের দেশে এনে রায় কার্যকরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাঁত্তরের ওই বিয়োগান্ত ঘটনা এখনও জাতিকে পীড়া দেয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের ওই কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত হন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুননেছা, পুত্র শেখ কামাল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর এক ভাই শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্ণেল জামিল, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক, প্রায় একই সময় ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসায় হামলা চালিয়ে শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্ত:সত্তা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর এক ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত এবং তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত ও এক আত্মীয় বেন্টু খান। জাতি আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে আজকের এই শোক দিবসকে।

পাকিস্তানী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার যে ডাক দিয়েছিলেন তা অবিস্মরণীয় ঘোষণা ছিল। সেদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয়- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এই অমর আহ্বানে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিপীড়িত ৭ কোটি বাঙালি। সেই মন্ত্রপূত ঘোষণায় বাঙালি হয়ে উঠেছিল লড়াকু এক বীরের জাতিতে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠেই জাতি শুনেছিল মহান স্বাধীনতার অমর এক ঘোষণা। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ওই রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসভবন হতে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস তাকে বন্দি থাকতে হয় পাকিস্তানের প্রকষ্ঠ কারাগারে। তার আহ্বানেই চলেছিল মুক্তিযুদ্ধ। বন্দিদশায় মৃত্যুর খবর মাথায় ঝুললেও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি অকুতোভয় এই মহান নেতা। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এদেশ স্বাধীন হয়। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতাকে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। বীরের বেশে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু।

দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখে দেশের মানুষকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশগড়ার এই সংগ্রামে চলার পথে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তার দেশের মানুষ কখনও তার ত্যাগ এবং অবদানকে ভুলে যাবে না, কখনও অকৃতজ্ঞ হবে না। নবগঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু তাই সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের সাধারণ বাড়িটিতেই বসবাস করতেন। যেখানে ঘাতকরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

Loading...