The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

স্ত্রীর খোরপোশের জন্য কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেন এক স্বামী!

অষ্টম শ্রেণি পাস স্ত্রীকে বিয়ে করা কম্পিউটার এডুকেশনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা, এমনকি বি.এড-ও পাস করিয়েছেন!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্ত্রীর খোরপোশের জন্য কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেন এক স্বামী! কারণ স্ত্রীকে পড়াতে গিয়ে রীতিমতো তাকে দেওলিয়া হতে হয়েছে। এখন তিনি নি:স্ব। এমন অবস্থায় স্ত্রী ডিভোর্স নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত খোরপোষের টাকা দিতে নিজের কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন!

স্ত্রীর খোরপোশের জন্য কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেন এক স্বামী! 1

এমন বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বিদিশা নামক স্থানে। সেখানকার এক বাসিন্দা হলেন প্রকাশ আহিরওয়ার। পেশায় তিনি পাইপ মিস্ত্রি। দিন আনি দিন খাই, এভাবেই রুটিরুজি হয় প্রকাশের। কিন্তু স্ত্রী পড়ালেখা করাতে গিয়ে তিনি হয়েছেন নি:শ্ব। এখও স্ত্রীও তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। এখন স্ত্রীকে মাসে ২২০০ টাকা খোরপোষের খরচ জোগাতে গিয়ে তিনি কিডনি বিক্রির পথ বেছে নিয়েছেন। তবে তার আসল গল্পটা জানতে হলে পিছের ঘটনা জানতে হবে।

বিয়ে হয় প্রকাশের ২০০২ সালে। স্ত্রী ছিলো অষ্টম শ্রেণি পাস। প্রকাশ জানিয়েছেন, বিয়ের পরেও স্ত্রীকে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে তিনি উৎসাহ দেন। তার স্ত্রী এক সময় বিএ পাস করেন। এরপর কম্পিউটার এডুকেশনে একটি স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা, এমনকি বি.এড-ও পাস করেন প্রকাশের স্ত্রী। আর এ সবই করান প্রকাশ নিজেই!

পরে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নেওয়ার পর একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ শুরু করেন ওই মহিলা। তবে তারপরই আদালতে গিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন প্রকাশের স্ত্রী! অভিযোগ করেন, ‘প্রকাশ রোজগারের কোনও চেষ্টাই করে না।’ মাসিক ২২০০ টাকা খোরপোষসহ বিবাহ বিচ্ছেদের নির্দেশ দেয় আদালত।

এরপর নিরুপায় হয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় কিডনি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছেন প্রকাশ। প্রকাশের দাবি হলো, স্ত্রীয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। এখন তার হাতে একটা কানাকড়িও নেই। তিনি এখন সর্বস্বান্ত।

তাই কিডনি বিক্রি করে খোরপোষ দেওয়া ছাড়া তার হাতে অন্য কোনও উপায় নেই। তবে এতোকিছুর পরেও তিনি যে এখনও তার স্ত্রীকে ভালোবাসেন, সেটিও ওই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছেন প্রকাশ আহিরওয়ার।

Loading...