সেনাদের রক্ষা করে ইউকে মেডেল অর্জন করলো সামরিক বাহিনীর একটি কুকুর!

যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘ডিককিন মেডেল’ দেওয়া হয়েছে দেশটির স্পেশাল ফোর্সের একটি কুকুরকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কুকুর প্রভুভক্ত সেটি আমাদের জানা। তবে এবার আরও একধাপ এগিয়ে গেছে এই কুকুররা। সেনাদের রক্ষা করে ইউকে মেডেল অর্জন করলো সামরিক বাহিনীর একটি কুকুর!

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘ডিককিন মেডেল’ দেওয়া হয়েছে দেশটির স্পেশাল ফোর্সের একটি কুকুরকে। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযানে শতাধিক সেনাকে বাঁচানোর স্বীকৃতিস্বরূপ গত ১৭ নভেম্বর তাকে এই মেডেল দেওয়া হয়। বেলজিয়ামের মলিনোইন প্রজাতির ওই কুকুরটির নাম মালি। যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া ক্রস সম্মাননার সমতুল্য পিডিএসএ ‘ডিককিন মেডেল’ এ ভূষিত করা হয় কুকুরটিকে।

সম্মুখ যুদ্ধে ব্যাপক সাহসিকতা এবং বীরত্বের জন্য সেনাদের ভিক্টোরিয়া ক্রস পদক দেওয়া হয়ে থাকে। মালি নামের কুকুরটিকে এর সমতুল্য পিডিএসএ ‘ডিককিন মেডেল’ দেওয়ার কারণ হলো ২০১২ সালে আফগানিস্তানে তার এক অনন্য ভূমিকা পালন। ওই বছর দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ এক সামরিক অভিযানে তালেবানদের একটি ফাঁদ শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ওই কুকুর মালি। ঘ্রাণ শুঁকেই সে ওই ফাঁদের বিষয়টি ধরে ফেলে।

কাবুলের একটি টাওয়ার হতে জঙ্গিদের উৎখাতের ওই অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ৮ বছর বয়সী কুকুরটিও অংশ নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায়ও সে সেনাদের সহায়তা অব্যাহত রেখেছিল।

স্পেশাল বোট সার্ভিসের (এসবিএস) অভিযানে অংশ নিয়ে অনেক ব্রিটেন এবং আফগান সেনাদের জীবন বাঁচানোর জন্য কুকুরটিকে এই কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অসুস্থ জীবজন্তুর জন্য গঠিত পিপলস ডিসপেনসারির দাতব্য পশুচিকিৎসা বিভাগের মহাপরিচালক জান ম্যাকলাওলিন বলেছেন, ‘মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও কুকুরটি তার নির্দেশদাতার পাশেই অবস্থান করছিল ও সেনাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করছিল। এটাই হলো কাজের প্রতি কুকুরটির ভক্তি এবং শ্রদ্ধা।’

শুধু তাই নয়, কাবুলের একটি টাওয়ারে অবস্থান করা সুইসাইড স্কোয়াডের নিকট হতে অস্ত্র ছিনিয়ে আনা ও তালেবানদের আক্রমণ হতে ওই এলাকাকে নিরাপদ রাখাই ছিল মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য। মালি (কুকুর) ওই অভিযানের একটি বিশেষ অংশ ছিল।

অভিযানের সময় কুকুরটি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার পাশেই অবস্থান করেন। তবে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাকে ওই টাওয়ারে বিস্ফোরক খোঁজার জন্য অভিযানে সম্মুখভাগে সরাসরি গুলি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সফলতার সঙ্গে কয়েকবার জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে পেরেছিলেন। যাতে তার পেছনে থাকা দলটি শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে জয়লাভ করতে পারে।

অভিযানের সময় মালি ৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে আহতও হয়। যার প্রথম দুটি বিস্ফোরণে মালির বুক, মুখ ও পেছনের এক পাশের পায়ে আঘাত লাগে। শেষের ডেটোনেট বিস্ফোরণে মালির মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যে কারণে সে তার সামনের দাঁতগুলো হারায়। তার ডান কানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কুকুরটির বর্তমান নির্দেশক বা নির্দেশদাতা করপোরেল ডানিয়েল হ্যাটলে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি মালিকে নিয়ে সত্যিই গর্ববোধ করি। সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে সে আমাদের সহকর্মীদের জীবন বাঁচিয়েছে। এই পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে ওইদিন অভিযানে অংশ নেওয়া ফোর্সের মধ্যে মালির ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হলো।’

বর্তমানে কুকুরটিকে অভিযানের সম্মুখভাগের দায়িত্ব হতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন মালি এবং তার নির্দেশক হ্যাটলে লিচেস্টারসায়ারের সামরিক এনিমেল সেন্টারে নতুন নির্দেশদাতাদের প্রশিক্ষণের জন্য কর্মরত রয়েছে।

জানা গেছে, হাতে তৈরি বোমা ও বিস্ফোরক শনাক্তের কাজে আফগানিস্তানে বিভিন্ন অভিযানে কুকুরকে অত্যন্ত ‍গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হয়ে থাকে। স্পেশাল ফোর্স বিভিন্ন অভিযানে নিয়মিত কুকুর ব্যবহার করে থাকে।

উল্লেখ্য,, ১৯৪৩ সাল থেকে ডিককিন মেডেল পুরস্কার দেওয়া শুরু করেন পিপলস ডিসপেনসারির দাতব্য পশুচিকিত্সা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া ডিককিন। এর পূর্বে বিভিন্ন অভিযানে ভূমিকা রাখায় ৩২টি কবুতর, ৩১টি কুকুর, ৪টি ঘোড়া ও একটি বিড়ালকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...