‘মুসলমানদের উপর নির্যাতনের জন্য এক সময় মিয়ানমারকে চরম মূল্য দিতে হবে’

আমাদের দেশেও বহু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বি রয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছেন

এম. এইচ. সোহেল ॥ নিরাপরাধ মানুষের উপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর যে অত্যাচর-নির্যাতন চালাচ্ছে এর জন্য একদিন মিয়ানমারকে ‘মুসলমানদের উপর নির্যাতনের জন্য এক চরম মূল্য দিতে হবে’।

আমরা সবাই জানি প্রতিটি রাষ্ট্রই জাতি ধর্ম বর্ণ এগুলোর বিচার-বিবেচনায় এনেই তাদের উপর সেইভাবে আচরণ করে। মুসলমানদের উপর অনেক বিদ্বেষ থাকলেও স্বয়ং মার্কিন মুলুকেও মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছেন। কতিপয় মুসলমানদের জন্য বিশ্বের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকলেও কোনো দেশই সব মুসলমানকে ওই এক কাতারে দাঁড় করায় না। প্রতিটি রাষ্ট্রই তাই যার যার ধর্ম পালনের উপর স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মধ্যেও কিছু সমস্যা সব সময় আমরা দেখতে পায়। তারা মুসলমানদের গরু জবাই থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে ধর্ম পালনে অনেক সময় বাধা দিয়ে থাকে। তবে সেটি সর্বত্র নয়। কিছু কিছু রাষ্ট্রে এমনটি ঘটে থাকে। কিন্তু সার্বিকভাবে মুসলমানরা ওই হিন্দু রাষ্ট্রটিতে শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছে সেটি বলা যায়।

আমেরিকাতে অনেক মুসলমান রয়েছে। সেখানেও তারা শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছেন। কারণ ১/১১ ঘটনার পর মুসলমানদের বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়। কতিপয় ব্যক্তির কারণে পুরো মুসলমানরা সাফার করতে পারেন না, সেটি আমেরিকনরাও বুঝেছেন। তাই সেখানকার মুসলমানরাও বলা যায় শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছেন। এমনিভাবে সারাবিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়।

আমাদের দেশ মুসলিম দেশ হলেও এখানে সব ধর্মের মানুষ বসবাস করছেন। এখানে হিন্দু, খৃস্টান, বৌদ্ধ সব ধর্মের মানুষ বসবাস করছেন। তাদেরকে আমরা কখনও পৃথক করে দেখিনি। অন্তত হিন্দুদের সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা আসলে সেটি বোঝা যায়। সার্বজনিনভাবে এই উৎসবটি আমাদের দেশে পালন হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও বহু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বি রয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছেন। দু’একটি হিন্দু ধর্মীদের উপর বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা হয়তো আমাদের দেশে ঘটে সেটি কেবলমাত্র রাজনৈতিক কারণেই ঘটে; রাষ্ট্রীয়ভাবে নয়।

কিন্তু মিয়ানমার যে কাজটি করছে সেটি রাষ্ট্রীয়ভাবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি দেশ একটি ধর্মের মানুষের উপর অকত্য অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে ঘরছাড়া করছে! ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিশ্বের ইতিহাসে এক জঘণ্যতম অপরাধ করছে। সমগ্র বিশ্ব একদিকে আর মিয়ানমার একাই একদিকে!

এমনটি কী কখনও হতে পারে? এমন অত্যাচর-নির্যাতন কী মেনে নেওয়া যায়? আজ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার। বিশ্বের প্রতিটি দেশই এই আচরণকে মেনে নিতে পারছেন না। লাখ লাখ মানুষকে ভিটেছাড়া করে মিয়ানমার আসলে কী করতে চাইছে সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। তবে মিয়ানমারকে একদিন এই অত্যাচারের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাদেরকে এর জন্য মূল্যও দিতে হবে। নিজ দেশের নাগরিকদের উপর এমন অত্যাচার-নির্যাতনের জন্য একদিন চরম মূল্য দিতে হবে মিয়ানমারকে।

এক সময়ের মানবিক নেত্রী হিসেবে খ্যাত অং সান সু কি কেও এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। যদিও ইতিমধ্যেই তিনি তার নমুুনা পেতে শুরু করেছেন। তাঁকে দেওয়া বিশ্বের অনেক সম্মাননা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। এমন ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আগে কখনও দেখা গেছে কি না সন্দেহ। এর পরও সু কি কিভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে মুখ দেখাচ্ছেন সেটিই ভাববার বিষয়। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল। একদিন যাকে বিশ্ববাসী সম্মান করতো, মাথায় তুলে রাখতো। আজ সেই নেত্রীকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এরপর আর কি বলার কিছু থাকতে পারে?

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের মানুষের কাছে এক মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের মতো একটি ছোট রাষ্ট্র যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সবশেষে একটি কথা বলা দরকার। আর সেটি হলো, এখনও সময় আছে মিয়ানমার সরকারের। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের কৃতকর্মের কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্য করতে পারেন। তা না হলে এক সময় যখন পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাবে, তখন তাদের আর কোনো পথ থাকবে না। মিয়ানমারে শুভবুদ্ধির উদয় হোক- সেই কামনা রইলো।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...