ওআইসি সৈন্যবাহিনী গড়ে তুললে ইসরাইলের কী অবস্থা হবে?

৭০ বছর পূর্বে অবৈধভাবে ফিলিস্তিনের ভূমিতে গড়ে উঠেছিল ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি বরাবরই গায়ের জোরে যা খুশি তাই করে আসছে। জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণার মাধ্যমে তাদের ষোলো কলা পূর্ণ হয়েছে। তবে বসে নেই মুসলিম বিশ্ব। ওআইসি সৈন্যবাহিনী গড়ে তুললে ইসরাইলের কী অবস্থা হবে? একবার ভাবুন।

আজ নয়, ৭০ বছর পূর্বে অবৈধভাবে ফিলিস্তিনের ভূমিতে গড়ে উঠেছিল ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর মদদ এবং স্বীকৃতির জোরে ফিলিস্তিনের আদিবাসী মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন চালিয়েই যাচ্ছে অবৈধ রাষ্ট্রটি।

এর অবসানকল্পে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যের বিরোধপূর্ণ ঐতিহাসিক ভূমিতে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইল নামে দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছিলো।

তবে দুই রাষ্ট্রের সমাধানের কথা বলে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডজুড়েই একক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে ইসরাইল।

এই চেষ্টায় সর্বশেষ গত ৬ ডিসেম্বর বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করে এই ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটি। এ দিন পবিত্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ওই ঘোষণার পর হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে মুসলিম বিশ্ব। ফিলিস্তিনের জন্য কয়েক বছর পর পরই এমন বড়সড় বিক্ষোভ করে মুসলমানরা। এক সময় বিক্ষোভ বন্ধ করে তারা ঘরেও ফিরে যায়। অপরদিকে ইসরাইলের দখলদারিত্বের কোনো নড়চড় হয় না।

এবারও ঠিক একই পরিস্থিতি ঘটবে বলে ধারণা করছেন সবাই। তবে এবার ফিলিস্তিন ইস্যুর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে পবিত্র জেরুজালেম শহর, যেখানে মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস অবস্থিত। তাই এবার মুসলিম রাষ্ট্রগুলো আগের মতো দায়সারা ভূমিকা রাখতে পারবে না কোনো অবস্থাতেই।

যদিও সৌদিসহ আরব দেশগুল জেরুজালেম ইস্যুতে তেমন জোরালো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তুমুল সমালোচনাও হচ্ছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় জোট ইসলামী সহযোগী সংস্থা ওআইসির জরুরি বৈঠককে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৯ সালে ওআইসি প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাই ইসরাইলের দখলদারি হতে জেরুজালেমকে রক্ষায় ওআইসি কার্যকর ভূমিকা নিতে বাধ্য হবে বলে আশা করছে সকলেই।

ওআইসি হচ্ছে ৪ মহাদেশব্যাপী ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি সংগঠন। এর সদস্য দেশগুলো একত্রিত হয়ে সেনাবাহিনী গড়লে সেটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাহিনী।

আর তাই ওআইসির সম্মিলিত বাহিনীর সক্রিয় সৈন্যের সংখ্যা দাঁড়াবে কমপক্ষে ৫২ লাখ ৬১০০। সেখানে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাজেট দাঁড়াবে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার।

অপরদিকে ইসরাইলের সক্রিয় সেনার সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার। তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন মাত্র।

যে কারণে ইসরাইল সৈন্যরা কখনোই মুসলিম সৈন্যদের সঙ্গে পেরে উঠা সম্ভব নয়। বরং মুসলিম দেশগুলো চাইলে ইসরাইলকে চারদিক থেকে ঘিরেও ফেলতে পারবে।

ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ৫০০টি ট্যাংক ও সাজোয়াঁ যান, ১০০টি বিমান, ৫০০টি হেলিকপ্টার ও ৫০টি জাহাজ এতে অংশ নেওয়া সম্ভব।

তুরস্ক এক্ষেত্রে অপারেশনের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তাদের সেনাবাহিনীর জন্য। তাদের প্রায় ৪ হাজার ট্যাংক, ১ হাজার বিমান, ১৩টি সাবমেরিন রয়েছে, যার মাধ্যমে তুরস্ক একাই ইসরাইলকে দমন করতে সক্ষম।

ওআইসি সদস্যদের মধ্যে পাকিস্তান একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ যাদের ভূমিকাও অনেক রয়েছে। তাই ইসরাইলকে এবার হয়তো বড় কোনো মূল্যও দিতে হতে পারে, যা আসলেও তাদের প্রাপ্য।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...