পৃথিবীর এক ভয়ংকর অভিযাত্রীর গল্প! ([ভিডিও]

একটি সাপ অভিযাত্রীকে গিলে ফেলে। তার পরেই ঘটে যায় এক আশ্চর্য ঘটনা। অজগরের পেটের ভিতর উঠে বসেন ওই অভিযাত্রী

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীতে অনেক ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। যেগুলোর কথা মনে করলেও মানুষ ভয়ে ঘাবড়ে যান। এমনই এক এনাকোন্ডার গল্প রয়েছে আজ। যা সত্যিই ভয়ংকর বটে।

ঘটনাটি এমন, আর তা হলো একটি সাপ অভিযাত্রীকে গিলে ফেলে। তার পরেই ঘটে যায় এক আশ্চর্য ঘটনা। অজগরের পেটের ভিতর উঠে বসেন ওই অভিযাত্রী।

দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্য-অধ্যুষিত এলাকায় ঘটেছিল এমন একটি ঘটনা। এক অভিযাত্রী জঙ্গলের ভিতরেহতে নেমে আসে বিশাল এক অ্যানাকোন্ডা। প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ সাপটির দিকে তাকিয়ে প্রায় সম্মোহিতের মতো হয়ে যান ওই অভিযাত্রী। ভয়ে নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন অভিযাত্রী। সেই সুযোগে আস্তে আস্তে তাকে পেঁচিয়ে ধরে ওই সাপটি। বিশাল হাঁ করে একটু একটু করে গলাধঃকরণ করতে থাকে ওই অভিযাত্রীকে।

তার সঙ্গীতো তখন ভয়ে দিশেহারা। সঙ্গে বন্দুক ছিল, তবে কোনও কারণে সেই মুহূর্তে তার বন্দুকটিও অকেজো হয়ে যায়। অভিযাত্রীকে গিলে ফেলে সাপটি। তার পরেই ঘটে এক অাশ্চর্য ঘটনা। অজগরের পেটের ভিতরেই উঠে বসেন ওই অভিযাত্রী। বাইরে হতে তার সঙ্গী স্পষ্ট বুঝতে পারছিলেন সাপের পেটের ভিতরে আসলে কী ঘটে চলেছে। অভিযাত্রী উঠে বসতেই ক্যামেরা বার করে ঘটনাটির একটি ছবি তুলে ফেলেন তিনি।

তার বিস্ময়ের তখনও আরও বাকি ছিল। তিনি দেখেন, সাপের পেটের চামড়া আস্তে আস্তে একেবারে হাঁ হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সাপের পেট চিরে বাইরে বেরিয়ে আসেন প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত ওই অভিযাত্রী। সাপের পেটের ভিতরে থাকা পাচন রস গা থেকে মুছে ফেলে হেসে অভিযাত্রী তার সঙ্গীকে বলেন, অ্যানাকোন্ডা কিংবা অজগর জাতীয় সাপেরা তাদের শিকারকে চিবোয় না, সরাসরি গিলে ফেলে।

তিনি তাই সাপের পেটের ভিতরেও অক্ষত ছিলেন। জ্ঞানও হারাননি তিনি। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে পকেট থেকে ছুরি বের করে তিনি চিরে ফেলে দেন সাপের পেটের চামড়া। তারপর বাইরে বেরিয়ে আসেন অক্ষত দেহে।

সত্যিই কি এমন কিছু ঘটেছে? যদি না-ই ঘটে থাকে, তা হলে উপরের ছবিটির ভিত্তিই বা কী? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই উদ্যোগী হয়েছিলেন নেট-ব্যবহারকারীদের একাংশ। অনুসন্ধানের প্রথম ধাপেই তারা জানতে পারেন যে, উপরের ছবিটি আদৌ ফোটোশপের কারসাজি নয়। ছবিটা বাস্তব সত্যি। তাহলে প্রকৃত ঘটনাটি কী?

সর্প-বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি কোনও পরিণত বয়স্ক মানুষকে গিলে খেতে হয়, তাহলে সেই অ্যানাকোন্ডাকে অন্তত ১৩ ফুট লম্বা হতে হবে।

অত বড় অ্যানাকোন্ডার দেখা যায় না সচরাচর। তাছাড়া অ্যানাকোন্ডার মানুষকে আক্রমণ করার মাত্র দু’টি ঘটনা আজ পর্যন্ত নথিভুক্ত হয়েছে পৃথিবীতে। দুই অসুস্থ অ্যানাকোন্ডাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন দুইজন প্রাণী বিশেষজ্ঞ। দুই ক্ষেত্রেই দুই দু’জন বিশেষজ্ঞের অল্পবিস্তর আঘাত পাওয়া ছাড়া গুরুতর কিছুই ঘটেনি।

তা হলে উপরের ছবিটির ব্যাখ্যা কী? খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, সত্যিই অ্যানাকোন্ডা মানুষকে আক্রমণ করে কি না, তা হাতে-কলমে পরীক্ষা করে দেখার জন্যই অভিযাত্রী পল রোজালি ২০১৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে পাড়ি দেন। তার এই গবেষণা একটি চ্যানেলে অনুষ্ঠান হিসেবে সম্প্রচারিত হয়।

একটি স্নেক-প্রুফ পোশাক পরে সারা গায়ে শুয়োরের রক্ত মেখে তিনি একটি ২০ ফুট লম্বা অ্যানোকোন্ডার সামনে শুয়ে তাকে প্রলুব্ধ করবার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পর সাপটি তাকে লেজে পেঁচিয়ে ধরে খাওয়ার উদ্যোগও নেয়। সাপটি সত্যিই তাকে আস্ত খেতে পারে কি না, সেটি জানার আগেই পল টের পান, সাপের লেজের প্যাঁচের চাপে তার বাঁ হাতটি ভেঙে গেছে। যন্ত্রণায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে তিনি চিৎকার করে সহযোগীদের ডাকতে থাকেন। তারা এসে সাপটির মুখ থেকে পলকে উদ্ধার করেন।

দেখুন ভিডিওটি

Advertisements
Loading...