আকাশ হতে পৃথিবীতে আসছে কোটি কোটি ভাইরাস!

বিজ্ঞানীরা জানতে পারলেন পৃথিবী হতে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারে চলে যাওয়া ভাইরাসরা আবার কিভাবে পৃথিবীর উপরই এসে পড়ছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার বিজ্ঞানীরা এমনই এক আতঙ্কজনক খবর দিয়েছেন যে, আকাশ হতে পৃথিবীতে আসছে কোটি কোটি ভাইরাস! তাহলে কী পরিণতি হবে মানবসভ্যতার?

এক আতঙ্কজনক খবর দিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আকাশ হতে প্রতিদিন কোটি কোটি অগণিত ভাইরাস এসে পড়ছে এই পৃথিবীতে! এমন পরিস্থিতি হলে পৃথিবীতে বসবাসকারীদের কি অবস্থা হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা জানতে পারলেন পৃথিবী হতে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারে চলে যাওয়া ভাইরাসরা আবার কিভাবে পৃথিবীর উপরই এসে পড়ছে। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় স্বতন্ত্র সব ভাইরাস কেনো পাওয়া যায়, সে বিষয়টি হয়তো এই গবেষণার মাধ্যমে জানা সম্ভব হবে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব বৃটিশ কলাম্বিয়ার ভাইরোলজিস্ট কার্টিস সাটল এই বিষয়ে বলেছেন, প্রতিদিন ৮০০ মিলিয়নেরও বেশি ভাইরাস বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারে গিয়ে জমা হয়। সাটল আরও বলছেন, একটি মহাদেশ হতে কোনো ভাইরাস বায়ুমন্ডলে উঠে গিয়ে অন্য আরেকটি মহাদেশের বায়ুমন্ডলে গিয়ে জমা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে অনেক। সাগরের পানি কিংবা ভূপৃষ্ঠের ক্ষুদ্র বালুকণার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস উড়ে গিয়ে বায়ুমন্ডলে জমা হতে থাকে। মূলত সমুদ্রের পানি হতে বাষ্পের সঙ্গে বেশিরভাগ ভাইরাস আকাশে উড়ে যায় বলেই মনে করেন গবেষকরা।

স্পেনের সিয়েরা নেভাদা মাউন্টেন এলাকায় এই গবেষণাটি চালানো হয়। গবেষকরা বলেছেন, সেখানে বায়ুমন্ডলে প্রতি বর্গ মিটার এলাকায় কোটি কোটি ভাইরাস এবং লাখ লাখ ব্যাকটেরিয়া গিয়ে জমা হচ্ছে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে ভাইরাসগুলো জমা হওয়ার মাত্রা প্রায় সাড়ে চারশ’ গুণেরও বেশি। বায়ুমন্ডলে ভেসে বেড়ানো অতি ক্ষুদ্র কণার সঙ্গে এইসব ভাইরাস দীর্ঘদিন ধরে আটকেও থাকতে পারে। সেসব কোটি কোটি ভাইরাস আবার বৃষ্টির পানির সঙ্গে এমনকি সাহারায় মরুঝড়ের মাধ্যমে পৃথিবীতে আবার ফিরে আসছে। মূলত ব্যাকটেরিয়ার কারণে বেশিরভাগ রোগ তৈরি হয়ে থাকে মানবদেহে। তবে ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এমনকি ইবোলা, ডেঙ্গু এবং এইডসের মতো মারাত্মক রোগের জন্যেও এই ভাইরাসই দায়ি বলে মনে করছেন গবেষকরা।

যদিও আকাশ থেকে পৃথিবীতে আসা কোটি কোটি ভাইরাস এখনই খুব বেশি ক্ষতিকর বলে মনে হচ্ছে না। তবে এই ভাইরাসগুলো যেহেতু মহাকাশে টিকে থাকতে পারে, সেহেতু এরা নতুন ইকো সিস্টেমে প্রভাব বিস্তার করতে পারে- এমনটিই ধারণা করছেন গবেষকরা।

Advertisements
Loading...