ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি: মহাভারত থেকেই নাকি ইন্টারনেট!

ইন্টারনেট আবিষ্কার নিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর এই অবাস্তব `নতুন তথ্য` হাসি-তামাশার খোরাক!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মাঝে-মধ্যেই ভারতের রাজনৈতিক নেতারা এমন সব উদ্ভট দাবি করে বসেন যা মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়। এবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, মহাভারত থেকেই নাকি ইন্টারনেট এর আবির্ভাব ঘটেছে!

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব দাবি করে বলেছেন, মহাভারত থেকেই নাকি ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছে। তার এই দাবি রাজনৈতিক মহলে হাসি-তামাশার খোরাক যুগিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা যায় যে, ইন্টারনেট কবে আবিষ্কৃত হয়েছিল? তাহলে আপনি উত্তর দেবেন আশির দশকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবিষ্কৃত হয়। তবে ষাটের দশক থেকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কম্পিউটারগুলোর সংযুক্তিকরণের জন্য ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক নিয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা শুরু হয়েছিল বলে আমরা জানি।

অথচ ভারতীয় জনতা পার্টি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতা মি. বিপ্লব দেবের বক্তব্য হলো, “মহাভারতে সঞ্জয় যেভাবে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহুদূরে অবস্থান করেও ধৃতরাষ্ট্রকে যুদ্ধের বর্ণনা দিয়েছেন, তা থেকেই বোঝা যায় যে সেই যুগেও ইন্টারনেট ছিল, স্যাটেলাইট ছিল। না হলে চোখ দিয়ে তিনি অতদূর দেখতে পেতেন কীভাবে!”

বিপ্লব কুমার দেবের মতে, “মাঝখানের সময়কালে হয়তো অনেক কিছুই বদলে গেছে। বিদেশিরা দাবি করছে, যে ইন্টারনেট বা স্যাটেলাইট তাদেরই আবিষ্কার।”

বিপ্লব কুমার দেব আরও বলেন, “এটা সেই দেশ, যেখানে লাখ লাখ বছর আগে থেকেই বিজ্ঞান ও প্রকৌশল রয়েছে,” আগরতলা শহরে একটি কর্মশালার উদ্বোধন করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী।

`মহাভারত` আসলে একটি মহাকাব্য বা এপিক। খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক হতে দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত সমাজের বর্ণনা পাওয়া যায় সেটি ঠিক, তবে সেখানে বর্ণিত প্রতিটি বাক্যই যে বৈজ্ঞানিক সত্য, তা মনে করার কোনও কারণই নেই।

ইন্টারনেট আবিষ্কার নিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর এই অবাস্তব `নতুন তথ্য` নিয়ে কোলকাতার বিজ্ঞান লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক পথিক গুহ বলেছেন, “এগুলো নিয়ে মন্তব্য করা মানেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া।”

উল্লেখ্য, বিজেপি নেতাদের কাছ থেকে এই প্রথম `নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য` জানা গেছে, তা কিন্তু নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে তাঁর সরকারের মন্ত্রী বা নানা রাজ্যের বিজেপি নেতারাও গত কয়েক বছরে এমন অনেক `নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য` দিয়েছেন, যেগুলো সামাজিক মাধ্যম হতে শুরু করে বৈজ্ঞানিক মহলেও হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে।

Advertisements
Loading...