The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মহাকাশে সফল উৎক্ষেপণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট কী কী কাজ করবে

শুক্রবার গভীর রাতে মহাকাশে উৎক্ষেপণ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গভীর রাতে মহাকাশে সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট কী কী কাজ করবে সে বিষয়টি জেনে নিন।

শুক্রবার গভীর রাতে মহাকাশে উৎক্ষেপণ হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এই সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫৭ তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট জগতে প্রবেশ করলো। এই দিনটি ছিলো বাংলাদেশের জন্য একটি সফলতম ও আনন্দময় দিন। এই স্যাটেলাইটটি আসলে কী কী কাজ করবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

স্যাটেলাইটের কিছু বিবরণ

মহাকাশে প্রায় ৫০টির ওপর দেশের দুই হাজারের ওপর স্যাটেলাইট বর্তমানে বিদ্যমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-আবহাওয়া স্যাটেলাইট, পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট, ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইটসহ নানা ধরনের স্যাটেলাইট। তবে বিএস-ওয়ান হলো যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।

এই স্যাটেলাইটের কাজ কী?

টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই মূলত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এটির সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিসও।

যেসব স্থানে অপটিক কেবল বা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায় সেসব স্থানে এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত হতে পারে ইন্টারনেট সংযোগ।

স্যাটেলাইটের ফুটপ্রিন্ট

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে। এর ফুটপ্রিন্ট বা কভারেজ হবে ইন্দোনেশিয়া হতে তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। শক্তিশালী কেইউ এবং সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইটটি সবচেয়ে ভালো কাভার করবে পুরো বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্থায়িত্ব

১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার নিকট হতে অরবিটাল স্লট কেনা হয়েছে এই স্যাটেলাইটের জন্য। তবে বিএস ওয়ানের স্থায়িত্ব ১৮ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

স্যাটেলাইট নির্মাণ প্রসঙ্গ

৩.৭ টন ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির ডিজাইন ও নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। যে রকেট এটাকে মহাকাশে নিয়ে গেছে সেটি বানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা স্পেসএক্স। উৎক্ষেপণ হলো ফ্লোরিডার লঞ্চপ্যাড হতে।

বিএস-ওয়ানের খরচ কতো

শুরুতে বাজেট ধরা হয়েছিলো ২৯৬৭.৯৫ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ২৭৬৫ কোটি টাকায় এই পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তারমধ্যে ১৩১৫ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকিটা বিদেশী অর্থায়ন।

স্যাটেলাইটটির অপারেশন

আর্থ স্টেশন হতে ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে যেতে সময় লাগবে ৮ দিনের মতো। তবে পুরোপুরি কাজের জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগবে ৩ মাসের মতো। তারপর এটির কাজ পুরোপুরিভাবে শুরু হবে।

জানা গেছে, প্রথম ৩ বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় এটির দেখভাল করবে বাংলাদেশ। পরে পুরোপুরি বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের হাতেই গাজীপুর এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়া আর্থ স্টেশন হতে নিয়ন্ত্রিত হবে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এই স্যাটেলাইট হবে বাংলাদেশের গৌরবের। বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন হলো এই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...