দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ব্যাটম্যানের ‘টাম্বলার’ সেই গাড়ির অনেকেরই জানা আছে। ব্যাটম্যানের ‘টাম্বলার’ সেই গাড়ি বাস্তবেও রয়েছে!
‘ব্যাটম্যান: ডার্ক নাইট’ সিরিজের চলচ্চিত্রের সেই চমৎকার গাড়িটির কথা মনে আছে অনেকের। টাম্বলার নামের সেই গাড়ি যেটি চলার পথে বাঁধা অতিক্রম পারতো লাফিয়ে লাফিয়ে। গথাম সিটির ধনকুবের ব্রুস ওয়েনের সেই গাড়িটি শুধুই ‘সায়েন্স ফিকশন’ বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীই নয়, বাস্তবেও রয়েছে তার অস্তিত্ব।
টাম্বলারের মতো হুবহু গাড়ি না থাকলেও রয়েছে এর কাছাকাছি একটি সংস্করণ। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক আবিষ্কারের মতোই এই গাড়িটির পরিকল্পনা হয় সামরিক গবেষণা হতে। তারই একটি ফিকশন রুপ দেখা যায় ব্যাটম্যান সিনেমাতেও। জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হতেই শুরু হয় এই গাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এক ‘আজগুবি’ গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলো। সামনে থাকা বাঁধা লাফিয়ে চলে যাবে এমন গাড়ির চিন্তা আজগুবিই ছাড়া আর কী! তবে এই আজগুবি চিন্তা বাস্তবায়ন করতেই কাজে নেমে পড়লেন ব্রিটিশ সামরিক গবেষকরা। তারা এমন একটি গাড়ি নির্মাণ করতে চাইলেন যা শত্রুর নিরাপত্তা বেষ্টনী লাফিয়ে অতিক্রম করতে সক্ষম। খুব সহজেই ঢুকে পরতে পারবে শত্রু শিবিরের মধ্যে।
গবেষক হ্যাফনার এমনই একটি গাড়ির নকশাঁও তৈরি করে ফেলেন। গাড়িটির নাম রাখা হয় ‘রোটাবাগী’ একটি জিপ গাড়ির আদলে স্পর্শকাতর নকশাঁর এই গাড়িটি তৈরি করা হয়। একটি রোটর ব্লেড ও পিছন দিকে বিশেষ এক নকশাঁ রাখা হয় এই গাড়িটিতে।
যেহেতু রোটরগুলোতে সেসময় কোনো শক্তির সঞ্চার করা হয়নি, তাই মূলত গাড়িটি কোন ধরণের বিমান হওয়ার বদলে এটি একধরনের গিরোকপ্টার হয়ে থেকে যায়। এটিতে শুধু একজন চালক বসার আসন ছিল। একই চালক মাটিতে যেমন গাড়িটিকে চালাতো, আবার আকাশেও এটিকে ভাসিয়ে রাখতো। মূলত ‘গ্লাইডিং’ করে হাওয়ায় ভেসে থাকতো গাড়িটি।
এই গাড়িটির যে সর্বশেষ সংস্করণ আনা হয় সেটি বাতাসে প্রায় মিনিটখানেক ভেসে থাকতে সক্ষম। শত্রুপক্ষের বাঁধা অতিক্রম করার জন্য ‘যথেষ্ট’ ছিল এই সময়। তবে সামরিক ময়দানে যাওয়ার জন্য তখনও প্রস্তুত ছিল না এই আজব গাড়ি।
যুদ্ধের সেই উত্তাল সময় অন্য ধরণের সামরিক যানগুলো তৈরির দিকে বেশি আগ্রহী ছিল সামরিক কর্মকর্তারা। তাই ব্যাটম্যানের গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা সে সময় বাদ দিয়েছিলো ব্রিটিশরা।
বিবিসির এক তথ্যে বলা হয়, পরবর্তীতে অর্থাৎ ষাট এর দশকে গাড়িটি নিয়ে আবারও কাজ শুরু করে ব্রিটিশরা। এবার নকশার পরিবর্তনও আনা হয়। গাড়িটির চারদিকে ১২টি ফ্যান বা পাখা যুক্ত করে নকশাঁ চূড়ান্ত করা হয় সে সময়। এই ফ্যানগুলোর সাহায্যে গাড়িটিকে শূণ্যে ভাসিয়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। বাঁধা অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে পাখা বন্ধ করে গাড়িটিকে মাটিতে নিয়ে আসা যেতো ওই নকশায়। ঠিক যেমনটি করতো ব্যাটম্যান।
দুঃখের বিষয় এই যে, অর্থের অভাবে শেষ পর্যন্ত গাড়িটি নকশাঁর কাগজেই পড়ে থেকেছিলো। ব্রুস ওয়েনের মতো কোনো ধনকুবের ব্যক্তি বা সংস্থা এই আজগুবি গাড়ি বানাতে অর্থ লগ্নি করতে সাহসই করেনি।
This post was last modified on মে ১২, ২০১৮ 2:54 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের ১ নম্বর হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…