The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

রাশিয়ার জন্মহার বাড়াবে বিশ্বকাপ ফুটবল!

১৯৯২ সাল হতে রাশিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশ পড়তির দিকে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সত্যিই এমন একটি খবর পড়ে আশ্চর্য হতে হয়। রাশিয়ার জন্মহার নাকি বাড়াতে পারে বিশ্বকাপ ফুটবল! বিশ্বকাপ ২০১৮ ফুটবল রাশিয়ার জন্মহার বাড়াবে- এমনই ধারণা করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা!

রাশিয়ার জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৫ জুলাই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও আসর সম্পর্কে আগ্রহী থাকবে দেশটির নাগরিকরা। বিশ্বকাপ আয়োজনকারী দেশের শিশু জন্মহারে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসে কিনা সেদিকেই নজর রাখবেন তারা।

বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রেও গবেষণায় দেখা যায় যে, খেলাধূলায় সাফল্যের সাথে জন্মহার বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে।

রাশিয়ার জন্য এটি অবশ্যই একটি সুখবর হতে পারে। কারণ হলো ১৯৯২ সাল হতে রাশিয়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশ পড়তির দিকে। যার অর্থ হলো প্রতিবছর মৃত্যুর সংখ্যা শিশু জন্মের সংখ্যার চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

কয়েকটি গবেষণা অনুযায়ী এমনও ধারণা করা হচ্ছে যে, রাশিয়ার জনসংখ্যা ১৪.৩ কোটি হতে ২০৫০ সালে এসে ১১.১ কোটিতে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ মৃত্যুহার, নিম্ন জন্মহার এবং জীবনযাপনের নিম্নমানের জন্য জনসংখ্যায় হ্রাস ঘটতে বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, রাশিয়ার জন্মহার প্রতি হাজারে ১৩ জন। যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশের চেয়ে তা অনেক বেশি।

তবে ১৯৬০ সালের সঙ্গে তুলনা করলে এই জন্মহার প্রায় অর্ধেক। অধিকাংশ দেশেই জন্মহার পতনের মাত্রা এতো বেশি ছিল না।

এই সমস্যা নিয়ে ক্রেমলিনও বেশ চিন্তিত রয়েছে। গতবছর নভেম্বরে জন্মহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন রকম সংস্কার প্রকল্প চালু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে প্রচারপত্র বিলি করা হয় যেখানে অন্যতম প্রধান প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেসব পরিবারের সদ্য জন্ম হওয়া শিশুর প্রথম ১৮ মাসের ভরণপোষণ খরচ বহন করবে রাষ্ট্র।

জন্মহারের ক্ষেত্রে ফুটবল কি সত্যিই ভূমিকা রাখতে পারবে?

এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল যে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয় ও আয়োজনের কারণে সেখানে জন্মহার বৃদ্ধি পায়। তবে এই বিষয়ের পক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় ২০০৭ সালে।

২০০৬ বিশ্বকাপের ৯ মাস পর জার্মানির হাসপাতালগুলো হতে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয় যে, জার্মানির জন্মহার ১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিসংখ্যান ও গবেষণা তথ্য

এই বিষয়ে জার্মান গণমাধ্যমকে ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ রল্ফ ক্লিশ বলেছেন, “সুখের অনুভূতি বিশেষ ধরনের হরমোন নির্গমন ঘটায় এবং গর্ভধারণে সেটি সহায়তা করে।”

“অনেক মানুষই বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টের সময় দারুণ উত্তেজিত থাকেন ও এই উত্তেজনার বহি:প্রকাশ হয়ে থাকে অন্য কোনো কাজের মাধ্যমেও।”

ব্রাজিলের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৫ সালের মার্চে ব্রাজিলের শিশু জন্মহার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, পূর্বের বছরের তুলনায় জন্মহার প্রায় ৭ ভাগ বেড়েছে।

জন্মহার বৃদ্ধিতে ফুটবলের ভূমিকা পরিমাপ করতে নাকি একটি পুরো টুর্নামেন্টও প্রয়োজন হয় না। ২০১৩ সালে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল তাদের এক গবেষণায় বলে, ‘জেনারেশন ইনিয়েস্তা’ শব্দটি ব্যবহার করে তার ব্যাখ্যা করতে।

জানা যায়, ২০০৯ এর মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ঠিক শেষদিকে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার এক গোলে চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বার্সেলোনা। এর ঠিক ৯ মাস পর, ২০১০ এর ফেব্রুয়ারিতে কাতালোনিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১৬% পর্যন্ত জন্মহার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ মেলে।

অপরদিকে ফুটবলে সাফল্যের সঙ্গে জন্মহার বৃদ্ধির এই সম্পর্ক ইতালিতেও স্বীকৃত হয়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের খেলায় বার্সেলোনাকে এএস রোমা হারিয়ে দেয়। এরপর এএস রোমার টুইটার অ্যাকাউন্ট হতে অনেকটা হাস্যরসাত্মকভাবেই ক্লাবের নিজেদের শিশুপণ্যের বিজ্ঞাপণ দেওয়া হয়।

ওই টুইটে লেখা হয়েছিলো যে, “৯ মাসের মধ্যে এগুলো হয়তো বিক্রি করার সুযোগ পাবো আমরা।”

জন্ম নিয়ে আইসল্যান্ডে কী ঘটেছিলো?

একটি ম্যাচ হতে আইসল্যান্ডও লাভবান হয়েছিল। বিশ্বকাপে বাছাই হওয়া ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে ২০১৬ সালের জুনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় আইসল্যান্ড। ওই টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়েছিল আইসল্যান্ডের প্রায় ২৭ হাজার দর্শক, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগের মতো।

এর ৯ মাস পর আইসল্যান্ডের গণমাধ্যমের তথ্যে বলা হয় যে, তাদের দেশে রেকর্ড পরিমাণ শিশু জন্ম নিয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপেও আইসল্যান্ডের জনসংখ্যার ওপর একই ধরনের প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইসল্যান্ড তাদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার মতো বড় একটি দলের সঙ্গে ড্র করে দারুণভাবে আসর শুরু করে।

রাশিয়ার ক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে?

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিচের র‍্যাঙ্কিংয়ের দেশ হলো স্বাগতিক রাশিয়া। কিন্তু সৌদি আরব ও মিসরকে হারিয়ে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ড প্রায় নিশ্চিত করেছে রুশরা। তাই আগামী বছর জন্মহারে ব্যাপক উন্নতি আশা করছে দেশটির বিশেষজ্ঞরা।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...