পরিবার থেকে পৃথক হচ্ছে জ্যাকসন কন্যা!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আত্মহত্যার চেষ্টার পর এবার জ্যাকসন কন্যা পরিবার থেকে পৃথক হচ্ছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

Paris-Jackson-1

অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কবজির রগ কেটে ও ঘুমের বড়ি খেয়ে ৫ জুন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল জ্যাকসন-কন্যা প্যারিস জ্যাকসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মিশেল বেকলফ প্যারিসের পরিবারের সদস্যদের পরিবর্তে তার দেখভালের দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন চিলড্রেন প্রোটেকশন সার্ভিসেস (সিপিএস) কর্তৃপক্ষকে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্যারিসের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ তাকে ভালো রাখার জন্য যা কিছু করা দরকার, তার সবই করবে সিপিএস। প্যারিসকে তার মা ৫৪ বছর বয়সী ডেবি রোর জিম্মায় দেওয়া হবে, নাকি কেয়ার হোমে পাঠানো হবে, শিগগিরই সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে সিপিএস কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যেই প্রয়াত ‘পপ কিং’ মাইকেল জ্যাকসনের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে প্যারিসকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউসিএলএ মেডিকেল সেন্টারের সাইকিয়াট্রিক ইউনিট থেকে চিলড্রেনস ওয়ার্ডে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, জ্যাকসন-পরিবারে প্যারিসের ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তার অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিপিএসের কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, প্যারিস বাড়িতে কেমন পরিবেশে থাকত।

অভিভাবকের কাছ থেকে যথাযথ দিক নির্দেশনা কিংবা সহযোগিতা সে পেত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সবকিছু খতিয়ে দেখার পর প্যারিসকে কোথায় এবং কার জিম্মায় রাখা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সিপিএস কর্তৃপক্ষ। প্যারিস মানসিকভাবে প্রচন্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে সে খুবই ঘাবড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া চিকিৎসকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসকদের কাছে বারবার সাহায্যও চেয়েছে প্যারিস।
প্রসঙ্গত, ৫ জুন বুধবার মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের বড়ি সেবনের পাশাপাশি ছুরি দিয়ে কবজির রগ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় প্যারিস। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার কবজিতে একাধিক ক্ষত চিহ্ন ছিল। তবে এখন সে আশঙ্কামুক্ত এবং ধীরে ধীরে সেরে উঠছে।

প্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আত্মহত্যা-চেষ্টার আগমুহূর্তে প্যারিস চিৎকার করে বলেছিল, ‘এখন বাবা যদি এখানে থাকত!’ সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্যারিস মনে করছে, পরিবারের কেও তাকে চায় না। পরিবারের সবার কাছ থেকে সে দূরে সরে গেছে। প্রচণ্ড একাকিত্বে ভুগছে সে। আত্মহত্যা প্রচেষ্টার এক দিন আগে প্যারিস বলেছিল, তার বাবার মতো আর কেওই তাকে বুঝতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার, প্যারিস/philly.com

Advertisements
Loading...