The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আর কতো শিক্ষার্থীকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে?

এদের মধ্যে চলতি মাসেই নিহত হয়েছেন দুইজন শিক্ষার্থী

এম. এইচ. সোহেল ॥ প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেক আন্দোলন হয়েছে দুর্ঘটনা রোধের জন্য। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মহা সড়ক ও রাজধানীর সড়কে যেনো এক মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে। গত মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সড়কে প্রাণ গেছে ৫ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর। রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা আবার রাস্তায় নেমেছে। জাতির কাছে আজ তাদের প্রশ্ন আর কতো শিক্ষার্থীকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে?

আর কতো শিক্ষার্থীকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে? 1

এদের মধ্যে চলতি মাসেই নিহত হয়েছেন দুইজন শিক্ষার্থী। গত মাসে নিহত হয়েছেন একজন ছাত্রীসহ ৩ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুইজন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র। একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং অপর জন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীতে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। কিন্তু আমরা আর কতো লাশ দেখবো? আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ যেনো আর মানছে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী নুসরাত চৌধুরী নিশাত (২৩) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ১২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তিনি।

নুসরাত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সম্মান (২০১২-১৩ সেশন) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া গ্রামের মৃত কবির হোসেন চৌধুরী কন্যা। এক কন্যা সন্তানের জননী নুসরাত গত ২১ জানুয়ারি সকালে পরীক্ষা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ভাটিয়ারি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর কোমায় চলে যান নুসরাত।

নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির এই ছাত্র নিহত হন গত ৪ ফেব্রুয়ারি। তিনি বিবিএর ছাত্র ছিলেন। ময়মনসিংহে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

কাজী শেহজাদ হক সাম্যর মোটরসাইকেল চালানোই ছিল যেনো নেশা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হতে মোটরসাইকেলে করে একাধিকবার বগুড়ায় নিজের বাড়িতেও গিয়েছেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা, হৈ-চৈয়ে মেতে থাকা উচ্ছ্বল এই ছেলেটির চঞ্চলতা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘাতক পিকআপের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের কামারখন্দ উপজেলার ওভারব্রিজ এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এএসএম জুলহাস জীম। এই সময় তার বড় ভাই একেএম জাকারিয়া আহত হন। নিহত জুলহাস বগুড়া জেলার বিন্দাবন পাড়ার তারাজুল ইসলামের পুত্র।

নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাকিব চৌধুরী তুর্য। এই ছাত্রের শখ ছিল ঘুরে বেড়ানো। নিজেই ড্রাইভ করে শখের গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াতেন তিনি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতেন। পড়াশোনার ফাঁকে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠতেন। হাসিখুশি সেই ছেলেটির উচ্ছ্বলতা চিরজীবনের জন্যই থেমে গেছে। একটি দুর্ঘটনায় তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এই ছেলেটি আর কোনদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আড্ডায় মেতে উঠবেন না। পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত সময়ও কাটাবে না। বাবা-মায়ের কাছে এটা ওটা নিয়ে বায়নাও ধরবে না। সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেছে একটি সম্ভাবনাময় ছাত্রের স্বপ্ন। গত ৫ মার্চ রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তুর্য। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে এখনও। থামছে না কান্না। পরিবারের মধ্যমনি এই ছাত্রের জন্য এখনও আঁতকে উঠেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, প্রাইভেটকার ড্রাইভ করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকার দুমড়ে-মুচড়ে নিহত হন তুর্য। ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা করতে গিয়ে ০৫ মার্চ মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানীর প্রগতি-সরণিতে ওই দুর্ঘটনায় পড়েন তুর্য। এ ঘটনায় ফারদিন খান (২৪) নামে প্রাইভেটকারের অপর যাত্রী তুর্যের মামাতো ভাই গুরুতর আহত হন।

১৯ মার্চ রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত হয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। আবরার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সুপ্রভাত পরিবহন নামে একটি বাসের চাপায় নিহত হন আবরার আহমেদ চৌধুরী। তার বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী। এই ঘটনায় বাসচালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস সকালে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবরার বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এই সময় পাশে থাকা গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে করে ঘটনাস্থলেই আবরারের মৃত্যু ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে।

কিন্তু আমরা আর কতো মৃত্যু দেখবো? এর কী কোনো সমাধান নেই? আর কতো মায়ের কোল খালি হবে? সেই প্রশ্ন করা ছাড়া আমাদের যেনো আর করার কিছুই নেই!!!

Loading...