The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

২৪ ঘণ্টাই দিনের কারণে যেভাবে রোজা রাখা হয়

দেশটিতে রাত এতোটাই ছোট এখন যে রাতের কাজগুলো ঠিক মতো করাও কষ্টকর ব্যাপার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দিন ও রাতের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে সেটি আমাদের জানা। কিন্তু তাই বলে ২৪ ঘণ্টাই যদি দিন হয় তাহলে সেই দেশে মুসলমানরা কীভাবে রোজা রাখবেন?

২৪ ঘণ্টাই দিনের কারণে যেভাবে রোজা রাখা হয় 1

এই রমজানের মধ্যেই নতুন একটি চাকরিতে যোগদান করেছেন ৩৪ বছর বয়সী সোফি ক্লাউজার দার নামে একজন মুসলিম নাগরিক। ডেনমার্কের এই বাসিন্দা চিন্তায় রয়েছেন কারণ কিভাবে নতুন চাকরিতে গিয়ে ১৭ ঘণ্টা রোজা পালন করবেন। স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের দেশ ডেনমার্কে বর্তমানে ১৭ ঘণ্টা লম্বা দিন হয়। এতো দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হয় ডেনিশ মুসলমানদেরকে!

সোফি একটি বেবি কেয়ার সেন্টারে চাকরি শুরু করেন। নওমুসলিম এই নারীকে সেখানকার বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করতে হবে। দেশটিতে রাত এতোটাই ছোট এখন যে রাতের কাজগুলো ঠিক মতো করাও কষ্টকর ব্যাপার।

সোফি বলেছেন, রাতের খাবার এবং সেহেরী খাওয়া, মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ- এতোসব কাজের জন্য রাত একেবারেই ছোট। এখানে সময় দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। রাতে ঘুমানোর সময়ই পাওয়া যায় না বলা যায়।

শুধু ডেনমার্কই নয়, স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশেও একই ধরনের চিত্র। নরওয়ে, আইসল্যান্ডের মুসলমানরাও রোজা রাখা নিয়ে এই সমস্যার মুখোমুখী হয়ে থাকেন। এই অঞ্চলটিতে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে বছরের এই সময়টিতে সূর্যই অস্ত্র যায় না। আর্কটিক সাগরে নরওয়ের এসভালবার্ড দ্বীপমালা হলো তেমন একটি অঞ্চল। এপ্রিল হতে আগস্ট- সেখানে বছরের এই সময়টিতে ২৪ ঘণ্টাই দিন থাকে। তাছাড়া নরওয়ের মূল ভূখণ্ডের ট্রোমসো শহরের অবস্থাও একই রকম।

এই রকম অঞ্চল সেখানে ‘মধ্যরাতের সূর্য’ও দেখা যায় না, তাহলে তারা কিভাবে রোজা রাখবেন। কিভাবে সেহেরী এবং ইফতার করবেন বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অনিশ্চয়তা। তবে তাদের জন্য ৩টি অপশন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নরওয়ের রাজধানী অসলোর একটি মসজিদের ইমাম ও মুসলিম স্কলার জনাব অসিম মোহাম্মাদ।

তিনি বলেছেন, যে অঞ্চলে সূর্য ডোবেই না, তারা হয়তো নিকটস্থ শহরের সূর্যদয় এবং সূর্যাস্ত দেখে রোজা রাখা ও ইফতার করতে পারেন। বা মুসলিমদের কেবলার নগরী মক্কার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিংবা তাদের এলাকায় কিছুদিন আগে যখন সূর্যাস্ত হতো সেই সময় হিসাব করে করতে পারেন।

ইমাম অসিম মোহাম্মাদ জানান, তার আশাপাশের অনেকেই রমজান মাসে চাকরি থেকে ছুটি নেওয়ার চিন্তা করছেন। কারণ হলো ১৭ ঘণ্টার বেশি রোজা রেখে চাকরি করা কঠিন একটি কাজ। তিনি বলেন, অবশ্য চাকরিতে কাজের ধরনের ওপরই এটি অনেকটা নির্ভরশীল। যারা অফিসের অভ্যন্তরে ডেক্স জব করেন এয়ার কন্ডিশনারের ভেতর তাদের খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে যারা এই গরম আবহাওয়ায় বাইরে কাজ করেন তাদের জন্য খুব কঠিন একটি বিষয়।

চরম গরমে দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখতে গিয়ে অনেকেই পানিশূন্যতা, ক্লান্তিসহ অনেকভাবেই অসুস্থ বোধ করতে পারেন। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নওমুসলিম নারী সোফি বলেন, রাত এতো ছোট যে পরের দিন রোজা রেখে সুস্থ্য থাকার মতো পর্যাপ্ত পানি এবং খাবার গ্রহণ করা হয় না। যে কারণে রোজা রাখা সত্যিই কঠিন একটি ব্যাপার। রাত ছোট হওয়ার কারণে ঘুম হয় না বললেই চলে সেটিও রোজাদারদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। ধরুন আমার বাচ্চাকে সকাল ৮টায় স্কুলে দিয়ে আসতে হয় কাজেই বিষয়টি কঠিন একটি ব্যাপার। তবে কয়েকদিন গেলে তখন রোজার একই কষ্টে অভ্যস্ত হয়ে যান বলে জানান এই নওমুসলিম নারী। তখন কষ্টও খুব একটা অনুভব হয় না।

নরওয়েতে গ্রীষ্ম বা বসন্তের দিকে দিন বড় হয়ে থাকে; কিন্তু শীতে এই চিত্রটা একেবারেই উল্টো। তাই যখন শীতে রোজা হয় তখন তাদের জন্যে সেটি খুবই সহজসাধ্য হয়ে যায়। ইমাম মোহাম্মদ বলেছেন, নরওয়েতে গ্রীষ্ম ও শীতে দিন-রাতের মধ্যে অনেক বেশিই পার্থক্য। ডিসেম্বরের শীতে মাত্র সোয়া ৩ টার মধ্যেই সূর্য ডোবে। যে কারণে শীতে রোজা রাখতে কোনো রকম অসুবিধা হয় না।

Loading...