The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিতে রান্নার পাত্রে বসিয়ে নদী পাড়ি!

হাসপাতালের দূরত্ব ওই ব্যক্তির বাসা হতে ১৫ কিলোমিটার। হাসপাতালে পৌঁছাতে গেলে পার হতে হবে একটি নদী

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় করুন অবস্থা বিরাজ করছে। এই সময় সাধারণ চিকিৎসা সেবা নেওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এক স্বামী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিতে রান্নার পাত্রে বসিয়ে নদী পাড়ি দিলেন!

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিতে রান্নার পাত্রে বসিয়ে নদী পাড়ি! 1

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, হাসপাতালের দূরত্ব ওই ব্যক্তির বাসা হতে ১৫ কিলোমিটার। হাসপাতালে পৌঁছাতে গেলে পার হতে হবে একটি নদী। সেই নদীর ওপর নেই কোনও ব্রিজ; এমনকি করোনা কারণে নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে না। উপায় না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ওই ব্যক্তি রান্নার একটি বড় পাত্রের মধ্যে বসিয়ে নদী পার করে হাসপাতালে নিলেন। তবে তাতে কোনো লাভই হয়নি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুই ঘটেছে পেটে থাকা সন্তানের। এমন একটি ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ছত্তিশগড়ের মিনাকাপল্লিতে। ওই পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সের গাফিলতিতেই মৃত্যু ঘটেছে গর্ভস্থ সন্তানের।

জানা যায়, মিনাকাপল্লির বাসিন্দা হলেন হরিশ ইয়ালাম। তার স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী। প্রথমবার সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ হতে যত্নের কোনও কমতি রাখা হয়নি। শরীর জানান দিচ্ছিল এবার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় এসে গেছে। তাই পরিবারের সকলে ঠিক করেন বাড়ি হতে ১৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে তাকে। তবে ওই হাসপাতালে যেতে হলেই স্থানীয় চিন্তাওয়াগু নদী পার হতে হবে। ওই নদীর ওপর এখনও কোনও ব্রিজ নির্মিত হয়নি। এছাড়া কোনও বিকল্প রাস্তাও নেই আর। এমন পরিস্থিতিতে একটি বড় মাপের রান্নার বাসনের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বাকে বসিয়ে নেওয়া হয়। পানির ওপর ভাসিয়ে ভাসিয়ে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় অন্তঃসত্ত্বাকে নিয়ে নদী পার হয়েছেন তারা। তারপর লক্ষ্মীকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় ভোপালপাট্টা নামের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

অন্তঃসত্ত্বার বোন বলেন, ‘হাসপাতালে পৌঁছানোর পরের দিনই লক্ষ্মীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়েছিলো। আমরা চিকিৎসক ও নার্সদের বিষয়টি জানাই। তারা বলেন যে, এখন শিফট শেষ হয়ে গেছে। পরের শিফটে আসা চিকিৎসক ও নার্স লক্ষ্মীর সন্তান প্রসব করাবে। সেই অনুযায়ী বেশ কিছুক্ষণ পরে তার চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর জানা যায় যে, লক্ষ্মী মৃত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এতো কষ্ট সহ্য করে হাসপাতালে আসার পরও চিকিৎসক ও নার্সের ব্যবহারে আমরা সত্যিই স্তম্ভিত। ঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে গর্ভস্থ সন্তানকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো।’

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...