The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ঘরের চালেই চলছে অনলাইন ক্লাস!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনার কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চলছে অনলাইন ক্লাস। তবে ফিলিপাইনের কিছু জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগের অবস্থা এমন যে লেখাপড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যুদ্ধেই নামতে হয়েছে!

ঘরের চালেই চলছে অনলাইন ক্লাস! 1

বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়ালেখার পরিস্থিতি একেবারেই কেড়ে নিয়েছে। যে কারণে কোনো মতে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

১০ বছর বয়সী ঝায় ও চালমার বাসার ভেতরে ইন্টারনেট সংযোগ একেবারেই পাওয়া যায় না। তাই করোনাকালে পঞ্চম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থীকে ছাদে উঠে চালের ওপর বসে বসেই করতে হয় অনলাইনে ক্লাস। ঝায় এর মা জানিয়েছেন, ‘মাঝে মাঝে আমরা সিমকার্ড পরিবর্তন করি যাতে করে আরেকটু ভালো সংযোগ পাওয়া যায়। তবে সব সময় তা করার মতো টাকাও হাতে থাকে না।’

ফিলিপাইনের সরকার অন্যান্য দেশের মতো শিক্ষার্থীদের এই পরিস্থিতিতে ট্যাব বা মোবাইল ফোন দিয়েছে, যার সাহায্যে তারা অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারেন। কথা ছিল জানুয়ারি মাসেই স্কুল আবার খুলবে। তেব দেশটিতে বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হওয়ার কারণে আরও কিছুদিন অনলাইনেই চলবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা।

অনলাইন পড়াশোনার দিক দিয়ে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো সাফল্য পেলেও ফিলিপাইনে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ১০ কোটি ৮ লাখ মানুষের দেশটিতে মাত্র ৫ ভাগের এক ভাগের হাতে, অর্থাৎ মাত্র ২ কোটি মানুষের কাছে রয়েছে ইন্টারনেট সুবিধা। তাছাড়াও আরও অনেক পরিবারেরই মোবাইল কেনার সামর্থ্যও নেই। অপরদিকে ইন্টারনেট না থাকায় স্কুলছুট হয়েছে দেশটির শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ।

১১ বছরের লাভলি তার পরিবারের সঙ্গে ম্যানিলার একটি কবরস্থানে থাকে। মুরগি বেচে সংসার চালাতে হয় তার বাবা-মার। বাসার মানুষের কাছ থেকে সে পড়াশোনায় সাহায্য না পেলেও তাদের পাশে, কবরের ওপরে বসেই পড়ার কাজ শেষ করতে হয়। লাভলির মা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি পড়াশোনার জন্য মোটেও অনুকূল নয়। তবে পরিস্থিতি মেনে নিয়েই তাকে বলতে হচ্ছে, ‘ব্যবসা না দেখলে ওকে তাহলে খাওয়াব কী? ও পড়াশোনা করে চাকরি পেলে তবেই আমরা এখান থেকে একদিন বেরোতে পারবো।’

কলেজপড়ুয়া মার্ক ফিলিপাইনসের বাতাঙ্গাস অঞ্চলের একজন বাসিন্দা। ইন্টারনেট সংযোগের জন্য তাকে কখনও জঙ্গলের ভেতর, কখনও বা পাহাড়ে চড়তে হয়। পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারনেটের খরচ জোগাতে পার্টটাইম কাজও করতে হয় তাকে। হাজারও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লক্ষ্যে অনড় থাকেন মার্ক। তার বক্তব্য হলো, ‘আমি জানি, আমরা মোটেও ধনী নই, তাই পড়াশোনা শেষ করেই আমি আমার বাবা-মায়ের ঋণ শোধ করতে চাই। হাল না ছেড়ে, ধৈর্যের সঙ্গে এই কঠিন সময়েও আমি পড়া-লেখায় মন দিতে চাই।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...