The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বেলাবর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ‘তালুকদার বাড়ি’ এখনও টিকে আছে মাটির ঘর নিয়ে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাচীন ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সমৃদ্ধ নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা। এখানেই উয়ারী-বটেশ্বরে রয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দূর্গ-নগরী।

বেলাবর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ‘তালুকদার বাড়ি’ এখনও টিকে আছে মাটির ঘর নিয়ে 1

রাজা নরসিংহের বহু প্রাচীন স্মৃতি বিজরিত নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাটুলি ইউনিয়নের ভাবলা গ্রামে ভাওয়াল রাজার নিকট হতে তালুকদারি ক্রয় করে তালুকদার বাড়ি খ্যাতি অর্জন করা ভাবলা ‘বাবুর বাড়ি’ এখনও টিকে রয়েছে বহু পুরাতন মাটির চৌচালা ঘর নিয়ে। সেইসঙ্গে কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে মাটির তৈরি বহু প্রাচীন সেই ডাকঘরটি।

বিভিন্ন পুরাতন কাগজপত্র এবং দলিল দস্তাবেজ হতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, প্রায় ৫০০ বছরেরও অধিক সময় ধরে এই বাড়িটি অবস্থিত। তবে বাংলা আনুমানিক ১২৪১ সাল, ইংরেজি ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে আলোচনায় উঠে আসে এই বাড়িটি। তখন এই বাড়ির কর্তা দূর্গাচরণ চক্রবর্তী তৎকালীন ভাওয়াল রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর নিকট হতে বিশাল তালুকদারি ক্রয় করে ‘তালুকদার বাড়ি’ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। ৫৮ বছর পর্যন্ত তিনি তালুকদারটি পরিচালনা করে মারা যান। দূর্গাচরণ বাবুর শেষ প্রয়াণের পর তার পুত্র শ্যামাচরণ চক্রবর্তী এবং তার অপর দুই ভাই গঙ্গাচরণ চক্রবর্তী ও অন্নদাচরণ চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে বিশাল তালুকদারির দায়িত্ব নেন। ৩টি কাচারির অধীনে তারা এই তালুকদারি পরিচালনা করতেন।

তখন এখানে পর্যায়ক্রমে নায়েব হিসেবে হরকুমার চক্রবর্তী (কসবা), অধর চন্দ্র গুহ, দেবেন্দ্র চক্রবর্তী (পাটুলী), গেনেন্দ্র চক্রবর্ত্তী (শিবপুর) প্রমুখ ব্যক্তিগণ চাকরি করতেন। তৎকালীন সময় এই তালুকদার বাড়ি বর্তমান ভাবলা বাবুর বাড়ির সদস্যদের ভাওয়াল রাজ পরিবারে তাদের যাতায়াত ছিল নিয়মিত। তালুকদার বাড়ির সম্পত্তিগুলো ৩টি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় অবস্থিত। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বড়গাঁও, তরগাঁও,সাফাইশ্রী, ভরাসন মৌজার জমি, বরাদিয়া, মনোহরদী উপজেলার পাঁচকান্দি, চুলা, কাটাবাড়িয়া, মাধুশাল, বারুদিয়া, খারাবো, জামালপুর, সর্বলক্ষণা, পাইকান, চন্ডীতলা এই সকল মৌজা।

বেলাব উপজেলার ভাবলা, মোগা, চন্ডীপাড়া, গলগলিয়া, ভাওয়ালের চর, চরসায়েট, লতিফপুর, রাজারামপুর এর মৌজাসমূহ বাবুরবাড়ির এই তালুকদারি এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাছাড়া পুরো অষ্টগ্রাম মৌজা এই তালুকদার এস্টেটের নিজস্ব জমি ছিল। বিশাল এই তালুকদারি দেখভাল তালুকদার ৩ ভাই ছাড়াও তাদের ছেলেরা দেখাশোনা করতো।

দূর্গাচরণ চক্রবর্তীর ছোট ছেলে অন্নদাচরণ ছিলেন যেমন একজন শিক্ষিত, তেমনি জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯২৭ সাল হতে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পাটুলী ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৃটিশ আমল এবং তৎপরবর্তীকালে স্বনামধন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ২৭ বছর ধরে পাটুলি ইউনিয়ন বোর্ড পরিচালনা করেন। সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদকসহ বহু সম্মানজনক পদক অর্জন করেছিলেন কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সততার কারণে।

কথিত রয়েছে যে, কোনো কোনো গাছে হাজার হাজার কাঁঠাল ধরতো বলে এগুলোকে মানুষ হাজারি গাছ বলেই ডাকতো। ভাওয়াল রাজ পরিবারের কেও আসলে অন্যান্য উপাদেয় খাবারের সঙ্গে হাজারি গাছের কাঁঠাল (যা অতি সুস্বাদু হিসেবে খ্যাতি ছিলো) দিয়ে আপ্যায়ণ করা হতো। এছাড়াও বাড়ির পশ্চিম দিকে ১৭০-১৮০ বছরের পুরনো লিচু গাছ, ১২০/১৩০ বছর প্রাচীন আম, কাঁঠাল, জাম সহ প্রায় সব ধরনের ঔষধি গাছেরও বিশাল সমাহার দেখা যাতো। বাড়ির পূর্ব পাশে এখনও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নারীদের জন্য সংরক্ষিত পাশাপাশি ৩টি আটচালা ঘরও ছিল। যে ঘরগুলোর ভিটের কেবলমাত্র অস্তিত্ব রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন এলাকা, পাড়া-মহল্লার নারীরা কীর্তন, পূজা উপকরণ প্রস্তুত কিংবা অনুষ্ঠানাদি প্রত্যক্ষ করতেন। বাড়ির সামনের কাচারি ঘরে নিয়মিত হিসাব-নিকাশও চলতো। এলাকার অনেক কর্মচারী সেখানে কাজ করতেন। বাড়ির পাহারায় তখন থাকতেন বৃটিশ সেনা সদস্য নেপালী বংশোদ্ভূত জং বাহাদুর। তার সেই বিশাল বডি বেল্ট ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র এখনও রয়েছে।

পরবর্তী সময় তালুকদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এই বাড়ির বংশধররা জীবিত থাকা সত্বেও বিভিন্ন উপায়ে এক শ্রেণীর লোভী মানুষদের কারণে জমি জমা, বাড়ির জিনিসপত্র বেহাত হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরেই এখনও টিকে রয়েছেন সেই পরিবারের অনেক সদস্য। এলাকাবাসী সহ তাদের দাবি ঐতিহ্য সংরক্ষণে সেখানে থাকা পুরাতন পোস্ট অফিস এবং মন্দিরটি সরকারি উদ্যোগে নির্মাণের মাধ্যমে যেনো স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়। এই বিষয়ে পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ইফরানুল হক ভূঁইয়া জামান বলেছেন ‘এই বাড়িটি এই এলাকার ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের একটি অংশ। এটি প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তথ্যসূত্র: bangladeshtoday.ne

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...