The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ভারতের শ্মশানের গেটে ঝুলছে ‘হাউসফুল’ নোটিশ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতে করোনা ভাইরাস এক ভয়াবহ মহামারি রূপ নিয়েছে। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারের মতো। জায়গা নেই শ্মশানে। তাই শ্মশানের গেটে ঝুলছে ‘হাউসফুল’ নোটিশ!

ভারতের শ্মশানের গেটে ঝুলছে ‘হাউসফুল’ নোটিশ! 1

অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগীর মৃত্যুতে হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের আহাজারির দৃশ্য বর্তমানে ভারতের প্রায় নিত্যদিনের চিত্র। দিল্লি, মুম্বাইয়ের পাশাপাশি কর্নাটক, গুজরাট ও এমনকি উত্তর প্রদেশেও অক্সিজেন সংকট এক চরম আকার ধারণ করেছে।

অপরদিকে ভারতের হাসপাতালের মর্গ এবং শ্মশানগুলোতে উপচে পড়ছে মৃতদেহ। মর্গের বাইরেই পড়ে রয়েছে মৃতদেহের সারি। শেষকৃত্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে মৃতদেহের সঙ্গে থাকা স্বজনদের।

অপরদিকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্নাটকের চামরাজপেটের শ্মশানে মরদেহ শেষকৃত্যের জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত শ্মশানের গেটে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ‘হাউসফুল’ নোটিশ!

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটছে প্রতিদিন। সেইসঙ্গে স্বাভাবিক মৃত্যুও হচ্ছে অনেকের। তাই লাশ সৎকার করার জায়গার অভাবে শ্মশানের বাইরে ‘হাউসফুল’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট শ্মশান কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে এইসব ছবি। কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালোরের ১৩টি ইলেকট্রিক চুল্লির বাইরেও ঝুলছে হাউসফুল নোটিশ। করোনায় প্রতিদিন বহু সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতির।

সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, কর্ণাটকের চামরাজপেটের শ্মশানে প্রতিদিন ২০টি লাশ ঢুকিয়ে নিয়েই গেটে ‘হাউসফুল’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। করোনায় মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের জন্য বেঙ্গালোর মহানগর পালিকে-কে (বিবিএমপি) শহরের পাশেই ২৩০ একর জমি দিয়েছে সরকার। মূলত করোনায় মৃতদের সৎকারের কাজই হচ্ছে ওই জায়গায়। তারপরেও শহরের শ্মশানে লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে বার বার। যা প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...