গোপনীয়তায় ফেলানী হত্যার বিচার শুরু ॥ আজ থেকে শুনানী

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক। গতকাল ভারতের কোচবিহারে শুরু হয়েছে বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী হত্যার বিচার। তবে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। আজ থেকে শুরু হবে শুনানী।

Phelani murder

গতকাল সকালে কোচবিহারের সোনারীতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১৮১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে ওই বিচারকাজ শুরু হয়। সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার থেকে শুনানি শুরু হবে। বিএসএফ সদর দপ্তরে কোনো সংবাদকর্মীকেও বিচারকাজ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট বা জিএসএফসি নামের এই বিচারব্যবস্থা সেনাবাহিনীর কোর্ট মার্শালের সমতুল্য। এতে পাঁচজন বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া চালাবেন। বিএসএফের নিজস্ব আইন অনুযায়ী বিচার চললেও দেশটির দণ্ডবিধিতে শাস্তির যে বিধান আছে, সে রকম বা তার থেকেও বেশি শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পেরোনোর সময়ে কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন ফেলানী।

বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অমিয় ঘোষ তাঁর ৫ দশমিক ৫৬ মিলিমিটার ইনসাস রাইফেল থেকে গুলি চালিয়েছিলেন। বিএসএফের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে আরও জানিয়েছেন, বিচারের শুরুতেই অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বিচারকেরা জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দোষ স্বীকার করছেন কি না, যাকে আইনি পরিভাষায় বলা হয়‘গিলটি প্লিড’ করছেন কি না। কিন্তু অমিয় ঘোষ দোষ স্বীকার করেননি।আদালতকে তিনি আইনি ভাষায় বলেছেন, ‘নট গিলটি’। ফেলানীকে হত্যার দায়ে বিএসএফের অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষ ঘটনার পর থেকেই ক্লোজ অ্যারেস্ট রয়েছেন। অর্থাৎ তিনি তাঁর ইউনিটের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের এলাকার মধ্যেই সীমিতভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেন। অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিএসএফ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, প্রথমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনা হবে। ১৯ আগস্ট ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আবদুল হানিফের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ওই দুই সাক্ষীসহ বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক কর্মকর্তাও গেছেন কোচবিহারে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। ফেলানী বোম্বের এক বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতো, ওইদিন সে কাটাতারের বেড়া টপকে বাংলাদেশে নিজ বাড়িতে আসছিল বলে শোনা যায়। ফেলানীর মৃতদেহ ৬ ঘণ্টা কাটাতারের সঙ্গে ঝুলে ছিল যে কারণে, কাঁটাতারের ওপর ঝুলে থাকা ফেলানীর মৃতদেহ নিয়ে সারা পৃথিবীতে হইচই পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সীমান্তে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। বিএসএফ সদর দপ্তর এ ঘটনার বিচার করতে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালত গঠন করে। তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো/অনলাইন সংবাদ মাধম।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...