সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা খুন ॥ সন্দেহভাজনের তালিকায় অর্ধশতাধিক ॥ মাদকমুক্ত করতে চাওয়ায় তার কাল হলো

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ সাবেক সিআইডি অফিসার ফজলুল করিম খান হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছে অর্ধশতাধিক- এমন কথা জানিয়েছে পুলিশ।

The X Police Officer killings

সাবেক সিআইডি অফিসার ফজলুল করিম খান (৬৯) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিন ক্ল্যু নিয়ে মাঠে পুলিশ। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী, জমি নিয়ে বিরোধিতাকারী ও পেশাগত জীবনে আসামিপক্ষের অর্ধশতাধিক সন্দেহভাজনদের তালিকায় তৈরি করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। খবর অনলাইন পত্রিকা সূত্রের।

জানা গেছে, বিশেষ করে পুলিশের তৈরি করা সন্দেহভাজনদের তালিকার প্রথমেই রাখা হয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ফজলুল করিম খান হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডের বাসিন্দা। রামপুরা মসজিদ কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি। এজন্য তিনি ওই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা সরবরাহ করেছিলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। এর ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের কোপানলে পড়েন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডির সাবেক এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

সূত্রমতে, রামপুরার বিভিন্ন অলিগলিতে জমজমাট মাদক ব্যবসা চলে। হাত বাড়ালেই মেলে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও হেরোইনের মতো মরণ নেশা। শুধু তাই নয়, রামপুরা বনশ্রী আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ফ্ল্যাটে চলে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। নেশার পাশাপাশি চলে নারী নিয়ে ফুর্তি। চলে রাতভর জুয়ার আসর। এমন অসংখ্য অভিযোগের তথ্য জানতেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়েছিলেন। মাদক ব্যবসায়ী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য সরবরাহ করেছিলেন তিনি।

পুলিশের তথ্যমতে, স্থানীয় গড ফাদার ও মাদক ব্যবসায়ীরা ফজলুল করিমকে ভাল নজরে দেখেননি। মাদক-নারী ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে তারা। যার ফলে ভাড়াটে কিলারদের ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়া নিহত কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধিতাকারী বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া চাকরিজীবনে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের বিষয়েও খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে বলে এই মাধ্যমটি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামপুরা থানাধীন ওয়াপদা রোডের নিজ বাড়ির ফ্ল্যাটে তিন সন্ত্রাসী ঢুকে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ফজলুল করিম সপরিবারে থাকতেন পশ্চিম রামপুরার ৭৫/২ নম্বর ওয়াপদা রোডের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায়। হত্যাকাণ্ডের আগ মুহূর্তে খবরের কাগজ পড়ছিলেন ফজলুল করিম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় তিন কিলার। অপারেশনের আগমুহূর্তে পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় দু’জন ও তৃতীয় তলায় একজন ঘাতক অবস্থান নেয়। পরে দরজা খোলা পেয়ে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিন কিলার একত্র হয়ে ফজলুল করিম ছাড়া বাসার সবাইকে এক রুমে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। অন্যদিকে ফজলুল করিমকে বাসার ড্রইং রুম থেকে বেড রুমে যাওয়ার করিডোরে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে খুনিরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৩-৪ রাউন্ড গুলি করে। ফজলুল করিম ১৯৬৯ সালে এসআই পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৭ সালে অবসরে যান। দীর্ঘ ৩৮ বছরের চাকরি জীবনে বেশিরভাগ সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে দায়িত্ব পালন করেছেন। অসংখ্য চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত করেছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সংঘবদ্ধ ও দুর্র্ধষ ডাকাত সদস্যদের পাকড়াও করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

Advertisements
Loading...