সিরিয়ায় হামলা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ সিরিয়ায় হামলা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই সমস্ত এলাকায় বসবাসকারীরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

Syria attacks

এদিকে সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সিরিয়ায় সীমিত আকারে নয়। হামলা হবে ব্যাপকভিত্তিক। ওয়াশিংটন থেকে এমনই আভাস মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোমবার রিপাবলিকান সিনেটদের নিয়ে কথা বলেন। সেখানেই এ আভাস স্পষ্ট হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

ভূমধ্যসাগর থেকে সিরিয়ার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে তা রাজধানী দামেস্ক বা আশপাশের কোথাও বিস্ফোরিত হওয়ার কোন চিহ্ন মেলেনি। গতকাল রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গেই শোইগু এ কথা বলেছেন। ইসরাইল বলেছে তারা ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার বিরুদ্ধে রিপাবলিকান দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন যে ম্যাককেইন তিনিও এখন সিরিয়ায় হামলা চালানোর পক্ষে। তিনি বলেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে কংগ্রেসে যে ভোট হবে তাতে সামরিক অভিযানের বিপক্ষে ভোট দিলে তা হবে বিপর্যয়কর।

সিরিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

সিরিয়া আক্রান্ত হলে কড়া জবাব দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল মেকদাদ। আসাদ বলেছেন, আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য ছাইভস্মে পরিণত হবে। সিরিয়ায় সারিন নামের বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস ছোড়া হয়েছে এর স্বপক্ষে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে যৎসামান্য প্রমাণ দেখাতে বলেন। আসাদ বলেন, সিরিয়া আক্রান্ত হলে প্রত্যেকেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারাবেন। একই রকম কথা বলেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল। ওদিকে পোপ ফ্রাঁসিস সব রকমের যুদ্ধ পরিহার করতে সবার প্রতি আহ্‌বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সিরিয়ায় সারিন গ্যাস ছাড়ার নিন্দা করেছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, আর নয় যুদ্ধ। কখনও নয় যুদ্ধ।

ওদিকে সিরিয়ার ইলেক্ট্রনিক আর্মি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে। সিরিয়ায় হামলা চালানো নিয়ে ফ্রান্সে বিরোধীদের আহ্‌বানে পার্লামেন্টে যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ-মার্ক আয়রাউলট। তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টে ভোট হবে কি হবে না সে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট। ফরাসি সংবিধান এমন ভোটাভুটি সমর্থন করে না। তাই আজ পার্লামেন্টে এ নিয়ে বিতর্ক হবে। তবে কোন ভোট হবে না। আর সিরিয়ায় হামলা হলে তাতে ফ্রান্স যুক্ত হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন এ বিষয়ে জোট গঠন হওয়ার পর। তিনি বলেন, ফ্রান্স এক্ষেত্রে একা কোন পদক্ষেপ নেবে না। ওদিকে গতকাল ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রীয় অংশ থেকে সিরিয়ার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন আতঙ্কে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে রিপোর্ট দিয়েছে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স। এতে বলা হয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে মস্কোর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে। কৃষ্ণ সাগরের কাছে আরমাভিরে অবস্থিত রাডার স্টেশনে তা ধরা পড়েছে। এই রাডারটি বসানো হয়েছে ইউরোপ ও ইরান থেকে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় কিনা তা শনাক্ত করতে।

সিরিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে তারা দামেস্কে বা এর আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা বিস্ফোরণের কোন চিহ্ন পায়নি। এ বিষয়টি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্‌লাদিমিনকে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব দিকে সিরিয়ার অবস্থান। এই সাগরের মাঝামাঝি অবস্থান থেকে ছোড়া হয়েছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র। এর আগে সিরিয়ার কাছে ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে তার সমালোচনা করেছে সিরিয়া। ওদিকে ইসরাইলের সামরিক এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানতে পারেননি। ওদিকে ইউএস মেরিন কোরের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে সিরিয়ার হ্যাকাররা। এতে তারা মার্কিন সেনাদের প্রতি আহ্‌বান জানিয়েছে, যদি ওয়াশিংটন সিরিয়ায় আক্রমণের নির্দেশ দেয় তাহলে তারা যেন তা প্রত্যাখ্যান করে। হ্যাক হওয়ার ফলে এই ওয়েবসাইটটি সোমবার বেশ কয়েক ঘণ্টা বিকল ছিল। এতে সাত বাক্যের একটি বার্তা পোস্ট করা হয়। বলা হয় এ কাজ করেছে এসইএ বা সিরিয়ান ইলেক্ট্রনিক আর্মি। এই গ্রুপটিই এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস, টুইটার, সামাজিক বিভিন্ন মিডিয়া হ্যাক করেছিল। ইউএস মেরিন কোরের ওয়েবসাইট হ্যাক করে তারা তাতে ছয়টি ছবি পোস্ট করে। এতে দেখানো হয় কিছু লোক হাতে লেখা কিছু বার্তা বহন করছে। তাতে লেখা- আমি আল কায়েদার জন্য সিরিয়ায় লড়াই করব না। ওদিকে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলকে পদক্ষেপ নিতে আরব লীগ অনুমোদন দিলেও তাদের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। তারা বলেছে, আরব লীগ এ বিষয়ে চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমন যুদ্ধাবস্থা অবস্থান বর্তমান সঙ্কট সমাধানে সহায়তা করবে না। এতে সংকট শুধু ঘনীভূতই হবে। শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা ও প্ররোচনা দেয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বের প্রতিটি মানুষ চাই শান্তি। যুদ্ধ কখনও শান্তি বয়ে আনতে পারে না। আর তাই আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ব্যবস্থা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তথ্যসূত্র: বিভিন্ন অনলাইন।

Advertisements
Loading...