দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, দুবাইয়ের পর এবার মালয়েশিয়ায় মুক্তি পাচ্ছে ‘দরদ’। আগামীকাল (৬ ডিসেম্বর) দেশটির ১৮টি সিনেমা হলে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে সুপারস্টার শাকিব খানের এই সিনেমাটি।
ইতিপূর্বে শাকিবের দু’টি ‘ইন্ডাস্ট্রি হিট’ ছবি ‘প্রিয়তমা’ এবং ‘তুফান’ মালয়েশিয়া মুক্তির পর সেখানকার প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরিবেশকরা বলছেন যে, ‘প্রিয়তমা’ এবং ‘তুফান’ সাফল্যে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে শাকিবের সিনেমার চাহিদা তুঙ্গে।
প্রিয়তমা এবং তুফানের সাফল্যের পর এবার ‘দরদ’ প্রদর্শনের স্বিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশী প্রদর্শনী সংস্থা জেটিজি এন্টারপ্রাইজ এসডিএন বিএইচডি ও হেপী ট্রিপ ট্রাভেল এন্ড ট্যুর।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কোতারায়ার রয়েল রুপসী রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, ৬ ডিসেম্বর মালয়েশিয়াতে মুক্তি পাবে ‘দরদ’। আর ৭ ডিসেম্বর থেকে পুরো মালয়েশিয়ার ১৮টি হলে দরদ ছবি মুক্তি পাবে।
যেসব সিনেমা হলে ‘দরদ’ ছবিটি পাবে তা হলো- কেএলসিসি, টাইম স্কয়ার, রাওয়াং, কেলাং, ইপু, জোহরবারুর সিটি স্কয়ার, পেনাং বিএম, পেনাং সিটি, মেলাক্কা, মোয়ার, সেরেম্বান, কুয়ান্তান ,সেলায়াং, শাহ আলম আইসিটি , কেলাং বুকিটরাজা , সুবাং সামমিট, কোতা টিংগি ও বাতু পাহাত।
বাংলাদেশে এই সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহও সৃষ্টি হয়েছে। মালয়েশিয়ার হ্যাপি ট্রিপ ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস পরিচালক এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন নিপু সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় প্রবাসীরা শাকিব খানকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। সে জন্যই মালয়েশিয়াতে “দরদ’ মুভি দেখার জন্য হলগুলোতে ফুল হাউজ উপস্থিত থাকবে বলেও আশা করছি।
অনন্য মামুনের পরিচালনায় ‘দরদ’-এ শাকিব খান দুলু মিয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৫ নভেম্বর মুক্তির পর সিনেমাটি ইতিমধ্যেই দর্শকদের প্রশংসায় সিক্ত হয়েছে। এই সিনেমায় শাকিব খান ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন সোনাল, পায়েল সরকার, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও রাজেশ শর্মা প্রমুখ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org