দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর নতুন বীমা প্ল্যান ‘নির্ভর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে। রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এই প্ল্যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে উম্মোচিত হয়।
বীমা পলিসির পুরো মেয়াদ জুড়ে যেন গ্রাহকদের প্রিমিয়াম দেওয়া না লাগে; এবং এর পাশাপাশি, মেয়াদ পর্যন্ত বীমাগ্রহীতার জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে এই রেগুলার ইনকাম প্ল্যান ‘নির্ভর’ নিয়ে এসেছে গার্ডিয়ান লাইফ। এই পলিসির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পর গ্রাহক বাকি মেয়াদে নিয়মিত আয়ের সুবিধা পাবেন। বীমা মেয়াদ চলাকালীন পুরো সময় গ্রাহক জীবন বীমা কাভারেজের আওতায় থাকবেন। এই পলিসিতে ১০-২৫ বছরের মেয়াদে প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে মাত্র ৫-১০ বছর। এছাড়া, বাকি সময় জুড়ে গ্রাহক নির্ধারিত আয় ও মেয়াদ শেষে আকর্ষণীয় মুনাফার সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। মাত্র ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করা যাবে এই অনন্য বীমা পলিসিটি।
এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গার্ডিয়ান লাইফ – এর অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ। এছাড়া, আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন গার্ডিয়ান লাইফের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব রিটেইল বিজনেস মাহমুদুর রহমান খান; চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. সজীব হোসেন, এফসিএ; ও চিফ অপারেটিং অফিসার, মো. সাউদ ইমরান সহ প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বীমা খাতের বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
এই বিষয়ে গার্ডিয়ান লাইফ – এর অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ বলেন, “আমরা সবসময় গ্রাহকদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ভাবনী ও আধুনিক বীমা সেবা নিয়ে এসেছি। ‘নির্ভর’ এমন একটি সহজ এবং নির্ভরযোগ্য বীমা প্ল্যান, যা গ্রাহকদের জীবনকে আরও বেশি নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উল্লেখ্য, বীমা খাতকে দেশের সব মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্স, ইন্স্যুরটেক, ব্যাংকাস্যুরেন্সসহ অন্যান্য উদ্ভাবনী বীমার ধারণা নিয়ে এসেছে গার্ডিয়ান লাইফ।
‘সবার জন্য বীমা’ এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা গার্ডিয়ান লাইফ এরই মধ্যে দেশের ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে বীমা সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে। একইসাথে, তারা ৪৫০-টিরও বেশি দেশি এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য বীমা সেবা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে সাড়ে ৪ শ’রও বেশি পার্টনার হাসপাতাল থেকে গার্ডিয়ান লাইফের গ্রাহকরা পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা।
ক্যাশলেস ফেসিলিটিস এর মাধ্যমে গ্রাহকরা গার্ডিয়ান লাইফ অ্যাপ এবং ২৪/৭ হেল্পলাইনের মাধ্যমে পার্টনার হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারছে নির্বিঘ্ন- কোন পেমেন্ট ছাড়াই।
গ্রাহকের যে কোনো প্রয়োজন পূরণে সপ্তাহে ৭দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে গার্ডিয়ান লাইফ-এর হেল্পলাইন (১৬৬২২)।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org