সন্তানদের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সন্তান হলো একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ সমাজের মূল ভিত্তি। একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম।

সন্তান জন্ম দেওয়াই মা-বাবার দায়িত্বের শেষ নয়; বরং সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের প্রকৃত দায়িত্ব। সন্তানকে সুস্থ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মা-বাবাকে সচেতন ও যত্নবান হতে হয়।

সন্তানের শারীরিক যত্ন নিশ্চিত করা মা-বাবার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা দেওয়া, অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া শারীরিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ শরীর ছাড়া সুস্থ মন গড়ে ওঠে না—এ বিষয়টি মা-বাবাকে সবসময় মনে রাখতে হবে।

Related Post

সন্তানের মানসিক বিকাশে মা-বাবার ভালোবাসা ও সময় দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানকে সময় দেওয়া, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। সন্তান কোনো ভুল করলে রাগ বা শাস্তির বদলে বুঝিয়ে বলা ও ধৈর্য ধরাই উত্তম। এতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মা-বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

নৈতিক এবং মূল্যবোধ গঠনে মা-বাবার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি ও মানবিকতা—এই গুণগুলো সন্তান শেখে মূলত পরিবার থেকেই। মা-বাবার আচরণই সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তাই নিজের কাজ ও কথার মাধ্যমে ভালো উদাহরণ তৈরি করা জরুরি। সন্তান যেন ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে, সে জন্য নিয়মিত নৈতিক শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত করা মা-বাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু ভালো স্কুলে ভর্তি করালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা, নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া দরকার। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, প্রশ্ন করতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো আধুনিক যুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানকে সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও মা-বাবার কর্তব্য। পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দেওয়া উচিত। বড়দের সম্মান করা, ছোটদের ভালোবাসা, অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখানো এবং নিয়ম-কানুন মানার অভ্যাস গড়ে তোলা সামাজিক জীবনের জন্য অপরিহার্য।

সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব সহজ নয়, কিন্তু এটি সবচেয়ে মহৎ দায়িত্ব। ভালোবাসা, ধৈর্য এবং সচেতনতার সঙ্গে সন্তানকে লালন-পালন করলে সে শুধু পরিবারের গর্বই নয়, সমাজেরও সম্পদ হয়ে উঠবে। মা-বাবার সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে একটি সুন্দর পরিবার, একটি সুস্থ সমাজ এবং একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ 4:17 pm

স্টাফ রিপোর্টার

View Comments

Recent Posts

ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের রেকর্ডে ‘পাসুরি’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…

% দিন আগে

রাশিয়ার ড্রোন হামলা থেকে অল্পের রক্ষা পেয়েছে জেলেনস্কির বিমান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…

% দিন আগে

শনি গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে বিশাল ১০ কোণ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…

% দিন আগে

এমন দৃশ্য আপনি কী আগে কখনও দেখেছেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…

% দিন আগে

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস এ স্বীকৃতি অর্জন করলো এনার্জিপ্যাক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…

% দিন আগে