শনি গ্রহের দক্ষিণ মেরুতে বিশাল ১০ কোণ!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি। তবে বাস্তবে সেগুলো তৈরি হয়েছে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে।

সম্প্রতি এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্য ধরা পড়েছে শনি গ্রহে। গ্রহটির দক্ষিণ মেরুকে ঘিরে বিজ্ঞানীরা বিশাল একটি ১০-কোণবিশিষ্ট বায়ুমণ্ডলীয় তরঙ্গ কিংবা ‘ডেকাগন’ শনাক্ত করেছেন। নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে এই অদ্ভুত আকৃতির অস্তিত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

শনি গ্রহের উত্তর মেরুতে একটি ষড়ভুজ বা ছয়-কোণবিশিষ্ট ঝড়ের মতো কাঠামো রয়েছে- যেটি বিজ্ঞানীদের কাছে বহুদিন ধরেই বিস্ময়ের বিষয়। ১৯৮০-এর দশকে ভয়েজার মহাকাশযানের পর্যবেক্ষণের পর থেকে উত্তর মেরুর এই ‘হেক্সাগন’ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সেটি কয়েক দশক ধরে প্রায় একই ধরনের কাঠামো ধরে রেখেছে। তবে এবার দক্ষিণ মেরুতে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জ্যামিতিক আকৃতি- ১০টি বাহু নিয়ে গঠিত বিশাল ডেকাগন।

Related Post

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, নতুন এই কাঠামোটি কোনো কঠিন বস্তু নয়। এটি মূলত শনির বায়ুমণ্ডলের গভীরে তৈরি হওয়া একটি বিশাল তরঙ্গ, যা শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ কিংবা জেট স্ট্রিমের মধ্যে অবস্থান করছে। বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে হাবলের ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বুঝতে পেরেছেন যে, ডেকাগনটি শুধু বায়ুমণ্ডলের একটি পাতলা স্তরে নেই; বরং একাধিক স্তরজুড়ে এর প্রভাব বিস্তৃত।

এটির আরও একটি বিস্ময়কর দিক হলো- বিজ্ঞানীদের ধারণা, কাঠামোটি বেশ সাম্প্রতিক। ২০২৩ সালের হাবল পর্যবেক্ষণে এর প্রাথমিক অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পরে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের স্থলভিত্তিক পর্যবেক্ষণেও এর চিহ্ন আরও স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ এটি হয়তো এমন একটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা, যা বিজ্ঞানীরা প্রায় তাদের চোখের সামনেই তৈরি হতে দেখছেন।

গবেষকেরা মনে করছেন, শনির দ্রুত ঘূর্ণন, শক্তিশালী জেট স্ট্রিম ও বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের গতিশীলতার সম্মিলিত প্রভাবে এই ধরনের জ্যামিতিক তরঙ্গ তৈরি হতে পারে। তবে ঠিক কেন দক্ষিণ মেরুতে এই আকৃতি এখন তৈরি হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, শনির উত্তর মেরুর হেক্সাগনের তুলনায় দক্ষিণের ডেকাগন স্থির নয়। এটি পরিবর্তনশীল ও বিকশিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হাবল, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা জানতে চান- এই ১০-কোণবিশিষ্ট কাঠামো কতদিন টিকে থাকবে ও শেষ পর্যন্ত এর পরিণতি কী হবে।

পৃথিবীতে আমরা ঝড়, ঘূর্ণিঝড় কিংবা মেঘের আকৃতি দেখি; তবে কোনো গ্রহের মেরুতে এত বিশাল এবং নিয়মিত জ্যামিতিক আকৃতির বায়ুমণ্ডলীয় তরঙ্গ নিঃসন্দেহে এক বিরল ঘটনা। তাই শনির এই ডেকাগন শুধু একটি অদ্ভুত দৃশ্য নয়- এটি গ্রহের বায়ুমণ্ডল কীভাবে কাজ করে, সেই রহস্য উন্মোচনের নতুন এক দরজা খুলে দিয়েছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 12:59 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

এমন দৃশ্য আপনি কী আগে কখনও দেখেছেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…

% দিন আগে

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস এ স্বীকৃতি অর্জন করলো এনার্জিপ্যাক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…

% দিন আগে

গ্যালাক্সি এস২৬ এফই: সাশ্রয়ী দামে শক্তিশালী এস সিরিজের স্মার্টফোন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্যামসাং-এর ফ্যান এডিশন, সংক্ষেপে এফই সিরিজের মূল লক্ষ্য হলো- ফ্ল্যাগশিপ…

% দিন আগে

প্রেমের নাটক করার মতো বয়স নাই : শবনম ফারিয়া

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার দাবিতে প্রেমনির্ভর…

% দিন আগে

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করলো ইরান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইজিস সিস্টেম সমৃদ্ধ যুদ্ধজাহাজ…

% দিন আগে