দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রকৃতির জগতে এমন প্রাণী রয়েছে, যাদের দেখলে মনে হতে পারে তারা যেন কোনো কল্পকাহিনি থেকে বেরিয়ে এসেছে।
থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে আবিষ্কৃত একটি ছোট পাহাড়ি গিরগিটি জাতীয় প্রাণীও তেমনই। বিজ্ঞানীরা নতুন প্রজাতির এই প্রাণীটির নাম দিয়েছেন Acanthosaura syrax- জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ House of the Dragon-এর কাল্পনিক ড্রাগন চরিত্র Syrax-এর নাম অনুসারে।
নতুন প্রজাতিটি দেখতে ছোট হলেও এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য বেশ আকর্ষণীয়। পাহাড়ি শিংওয়ালা ড্রাগন কিংবা mountain horned dragon গোত্রের প্রাণীগুলো সাধারণত গাছপালা ও পাহাড়ি বনাঞ্চলে বসবাস করে। এদের মাথা ও শরীরে শিংয়ের মতো উঁচু অংশ থাকায় দেখতে অনেকটা ক্ষুদ্র ড্রাগনের মতো লাগে।
নতুন প্রজাতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে শুধু দেখতে আলাদা হলেই হয় না। বিজ্ঞানীরা সাধারণত প্রাণীর শারীরিক গঠন, আঁশের বিন্যাস, রঙ, মাথার আকৃতি, শিংয়ের গঠন ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করেন। একই গোত্রের কাছাকাছি দেখতে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ক্ষুদ্র পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
থাইল্যান্ডের জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশটির পাহাড়ি এবং বনাঞ্চলে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে, যেগুলো এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি পরিচিত নয়। নতুন এই প্রাণীর আবিষ্কার তাই শুধু একটি নতুন নাম যোগ হওয়ার ঘটনা নয়; এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গবেষণার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।
প্রাণীটির নামকরণে জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রভাবও বেশ মজার। সাধারণত নতুন কোনো প্রাণীর নাম বিজ্ঞানী, গবেষক, কোনো বৈশিষ্ট্য বা আবিষ্কারের স্থান অনুসারে রাখা হয়। তবে কখনও কখনও গবেষকরা জনপ্রিয় বই, চলচ্চিত্র কিংবা টেলিভিশন সিরিজের চরিত্রের নামও ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণীটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে।
তবে নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের সঙ্গে সংরক্ষণের প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে। কোনো প্রাণী যদি নির্দিষ্ট একটি পাহাড়ি বন কিংবা ছোট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার আবাসস্থল ধ্বংস হলে পুরো প্রজাতিটিই ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বন উজাড়, কৃষিজমির সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের কর্মকাণ্ড অনেক ছোট প্রাণীর অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে পারে।
এই কারণে নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের পর গবেষকদের অন্যতম কাজ হলো প্রাণীটি কোথায় বাস করে, কত সংখ্যায় রয়েছে, কী খায় এবং তার আবাসস্থলের অবস্থা কেমন- এইসব জানা। শুধু নতুন প্রাণীর নাম প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; তার পরিবেশ রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, বাস্তব পৃথিবীতে একটি নতুন ‘ড্রাগন’ আবিষ্কৃত হয়েছে- যদিও সেটি আগুন ছোড়ে না, আকাশে উড়ে বেড়ায় না। এটি ছোট্ট এক পাহাড়ি সরীসৃপ। কিন্তু তার মাথা ও শরীরের গঠন এবং নামের কারণে প্রাণীটি ইতিমধ্যেই বিজ্ঞান এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির মধ্যে একটি মজার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
প্রকৃতির রহস্য যে এখনও শেষ হয়ে যায়নি, থাইল্যান্ডের এই ক্ষুদ্র ‘ড্রাগন’ তারই আরেকটি প্রমাণ। বিজ্ঞানীরা যত বেশি অনুসন্ধান করছেন, ততই বোঝা যাচ্ছে- পৃথিবীর বন, পাহাড় ও সমুদ্রের ভেতরে এখনও এমন অসংখ্য প্রাণী এবং জীবনের গল্প লুকিয়ে রয়েছে; যাদের সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষ খুব সামান্যই জানে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২৫, ২০২৬ 10:14 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শিশু অসুস্থ হলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। জ্বর, সর্দি,…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রতিটি টেস্ট ড্রাইভের বিপরীতে একটি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কাজের চাহিদা এবং ধরন বদলানোর সাথে সাথে বর্তমানে একইসাথে অনেকগুলো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ‘হ্যালো বাংলাদেশ, আই ক্যান সি ইউ।’ দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় ফিলিস্তিনিদের…