দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্কটল্যান্ডের একটি দুর্গের কাছে পাওয়া মধ্যযুগীয় একটি কঙ্কাল প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
কঙ্কালটির শরীরে পাওয়া গেছে ১৬৭টি ভাঙার চিহ্ন কিংবা fracture। গবেষকদের ধারণা, ওই ব্যক্তি হয়তো মধ্যযুগীয় যুদ্ধের সময় একটি বিশাল পাথর নিক্ষেপকারী যন্ত্রের সরাসরি আঘাতে নিহত হয়েছিলেন। ঘটনাটি শুধু ভয়াবহ নয়, মধ্যযুগের যুদ্ধ প্রযুক্তির বাস্তব প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা স্কটল্যান্ডের একটি দুর্গের কাছাকাছি সমাধিস্থ কঙ্কালটি পরীক্ষা করেন। কঙ্কালের হাড়ে এত বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় যে গবেষকরা প্রথমে বিষয়টির প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন। সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা বা একক অস্ত্রের আঘাতে এত বিপুল সংখ্যক হাড় ভাঙা সম্ভব কি না- সেটিই ছিল বড় প্রশ্ন।
পরীক্ষায় শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। মাথা, বুক, হাত-পা এবং শরীরের অন্যান্য অংশে একাধিক fracture থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করে যে ব্যক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী কোনো আঘাতের শিকার হয়েছিলেন।
গবেষকদের একটি সম্ভাবনা হলো, এটি ছিল বিশাল পাথর নিক্ষেপকারী মধ্যযুগীয় যুদ্ধযন্ত্রের আঘাত। সে সময় দুর্গ অবরোধের ক্ষেত্রে trebuchet-এর মতো যন্ত্র ব্যবহার করা হতো। এসব যন্ত্র দড়ি, কাঠ এবং ভারসাম্যের কৌশল ব্যবহার করে বিশাল পাথর অনেক দূরে নিক্ষেপ করতে পারত।
একটি বিশাল পাথর যদি কোনো মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত করে, তাহলে তার শরীরে যে ধরনের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, এই কঙ্কালের fracture pattern তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না- গবেষকরা সেটিই বিশ্লেষণ করছেন।
এই আবিষ্কারের সঙ্গে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম এডওয়ার্ডের স্কটল্যান্ড অভিযানের ইতিহাসের সম্ভাব্য সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। মধ্যযুগে ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যে সংঘাত ছিল দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। দুর্গ দখলের জন্য অবরোধ, পাথর নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধযন্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক। কঙ্কালে ১৬৭টি fracture পাওয়া গেছে বলেই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ব্যক্তিটি trebuchet-এর আঘাতেই মারা গিয়েছিলেন। অন্যান্য সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হবে। মৃত্যুর আগে আঘাত নাকি মৃত্যুর পর কঙ্কালের ওপর ক্ষতি হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাগারে হাড়ের ক্ষতচিহ্নের ধরন, বয়স এবং নিরাময়ের কোনো চিহ্ন ছিল কি না- এইসব বিশ্লেষণ করা হয়।
যদি গবেষকদের ধারণা সত্যি হয়, তাহলে এটি মধ্যযুগীয় যুদ্ধের একটি ভয়াবহ মুহূর্তের সরাসরি শারীরিক প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। ইতিহাসের বইয়ে আমরা দুর্গ অবরোধ এবং যুদ্ধযন্ত্রের কথা পড়ি, কিন্তু একটি কঙ্কালের হাড়ে সেই যুদ্ধের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া ইতিহাসকে অনেক বেশি বাস্তব করে তোলে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, শত শত বছর ধরে মাটির নিচে থাকা একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির হাড় আজ আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছে মধ্যযুগের যুদ্ধের একটি সম্ভাব্য প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। কোনো লিখিত নথি হয়তো জানাতে পারে না ওই ব্যক্তি কীভাবে মারা গিয়েছিলেন, তবে তার হাড়ের ১৬৭টি ক্ষতচিহ্ন যেনো সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের একটি ভয়াবহ গল্পই বলছে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২৫, ২০২৬ 10:07 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় ফিলিস্তিনিদের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ হাইহিল জুতা অনেক নারীর পোশাক এবং ব্যক্তিত্বের অংশ। বিশেষ অনুষ্ঠান,…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআইয়ের ব্যবহার এতোদিন মূলত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া,…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কাঁচা মরিচ বাঙালির খাবারের অন্যতম পরিচিত উপকরণ। ডাল, ভর্তা, তরকারি,…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার কলকাতার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড পেলো চ্যানেল আইয়ের তথ্যচিত্র ‘পায়ের…