দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে, যা প্রাচীন মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে হঠাৎ বদলে দেয়।
সার্বিয়ায় সম্প্রতি এমনই এক বিস্ময়কর নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। একটি জাদুঘরের সংগ্রহে থাকা বস্তু পুনরায় পরীক্ষা করতে গিয়ে গবেষকরা শনাক্ত করেছেন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ বছর পুরোনো একটি মানুষের দাঁত, যাতে ইচ্ছাকৃতভাবে ছিদ্র করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দাঁতটি কোনো একসময় দড়ি কিংবা সুতোয় ঝুলিয়ে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রথম দেখায় এটি হয়তো সাধারণ একটি দাঁতের মতোই মনে হতে পারে। তবে দাঁতের মাঝামাঝি অংশে তৈরি করা সূক্ষ্ম ছিদ্রই পুরো আবিষ্কারটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। ছিদ্রটি স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এটি মানুষের তৈরি- অর্থাৎ কেও পরিকল্পনা করে দাঁতটিকে ব্যবহারযোগ্য অলংকারে পরিণত করেছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শুধু প্রাচীন মানুষের শারীরিক অবশেষ নয়; বরং সেই সময়কার মানুষের নান্দনিকতা, সামাজিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত অলংকার ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য প্রমাণ।
প্রায় ৬ হাজার ৫০০ বছর আগে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি ও স্থায়ী বসতি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছিল। মানুষ তখন শুধু খাদ্য সংগ্রহ বা শিকারনির্ভর জীবনযাপন করত না; অনেক অঞ্চলে কৃষিকাজ, পশুপালন ও স্থায়ী বসতির বিকাশ ঘটছিল। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অলংকার এবং প্রতীকী বস্তু ব্যবহারের সংস্কৃতিও বিভিন্ন সমাজে দেখা যায়।
তবে মানুষের দাঁত দিয়ে অলংকার তৈরি করার ঘটনা বিশেষভাবে অস্বাভাবিক। প্রাণীর দাঁত, হাড়, শাঁস কিংবা পাথর দিয়ে প্রাচীন অলংকার পাওয়া গেলেও মানুষের দাঁতকে অলংকারে রূপান্তরের প্রমাণ তুলনামূলকভাবে বিরল।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- দাঁতটি কার ছিল? এটি কি মৃত ব্যক্তির নিজের দাঁত, নাকি অন্য কারও দাঁত সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হয়েছিল? আবার এটি কি ব্যক্তিগত স্মারক, ধর্মীয় প্রতীক, সামাজিক মর্যাদার চিহ্ন, নাকি নিছক অলংকার ছিল? এইসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়।
গবেষকরা যখন কোনো প্রাচীন অলংকার পরীক্ষা করেন, তখন শুধু তার বয়স নয়, ব্যবহারের ধরনও বোঝার চেষ্টা করেন। ছিদ্রের অবস্থান, ক্ষয়ের চিহ্ন, পৃষ্ঠের ঘষামাজা ও অন্যান্য ক্ষুদ্র পরিবর্তন থেকে বোঝা যেতে পারে বস্তুটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।
জাদুঘরের তাকেই বছরের পর বছর পড়ে থাকা এই বস্তুটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার সবসময় খননস্থল থেকে সরাসরি নতুন করে পাওয়া যায় না। কখনও বহু বছর আগে সংগ্রহ করা কোনো বস্তু আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন গবেষণার মাধ্যমে নতুন পরিচয় পায়।
৬ হাজার ৫০০ বছর আগে একজন মানুষ কেন একটি দাঁত ছিদ্র করে গলায় ঝুলিয়েছিলেন- এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনও পুরোপুরি জানা যাবে না। তবে সেই ছোট্ট দাঁত আজ আমাদের সামনে প্রাচীন মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, সৌন্দর্যবোধ ও সামাজিক জীবনের এক অদ্ভুত জানালাও খুলে দিয়েছে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২৫, ২০২৬ 9:57 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চুলে জট বাঁধা অনেকের জন্যই দৈনন্দিন জীবনের বিরক্তিকর একটি সমস্যা।…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞান গবেষণার একটি প্রচলিত চিত্র হলো- ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানী পরীক্ষা সাজাচ্ছেন,…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমলকি বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত এবং পুষ্টিকর ফল। ছোট আকারের এই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া…