চুলের জট সমস্যায় করণীয় কী

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চুলে জট বাঁধা অনেকের জন্যই দৈনন্দিন জীবনের বিরক্তিকর একটি সমস্যা। বিশেষ করে লম্বা, ঘন, কোঁকড়ানো কিংবা শুষ্ক চুলে জট বেশি দেখা যায়।

ঘুম থেকে ওঠার পর চুল আঁচড়াতে গিয়ে টান পড়া, চুল ছিঁড়ে যাওয়া বা গোছা গোছা চুল উঠে আসার কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। চুলে জট শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; ভুলভাবে জট ছাড়াতে গেলে চুলের গোড়া এবং চুলের বাইরের স্তরে ক্ষতি হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে সঠিক পদ্ধতিতে জট ছাড়ানো জরুরি।

চুলে জট হওয়ার অন্যতম কারণ হলো চুলের অতিরিক্ত শুষ্কতা। চুলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে চুলের আঁশ বা কিউটিকল খসখসে হয়ে যায় ও একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। নিয়মিত অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার, চুলে রাসায়নিক প্রয়োগ, অতিরিক্ত রোদ, বাতাস, অনুপযুক্ত চুলের প্রসাধনী ও চুলের যত্নে অনিয়মও জট বাড়াতে পারে।

Related Post

জট বাঁধলে প্রথমেই চিরুনি দিয়ে জোরে টান দেওয়া উচিত নয়। এতে চুলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে ও চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যেতে পারে। বরং চুলকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ধীরে ধীরে জট ছাড়ানো ভালো। বড় জট হলে প্রথমে আঙুল দিয়ে আলগা করার চেষ্টা করা যেতে পারে। তারপর চুলের ডগা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে যেতে হবে। গোড়া থেকে সরাসরি চিরুনি চালালে জট আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে।

চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত চিরুনি ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘন কিংবা কোঁকড়ানো চুলে প্রশস্ত দাঁতের চিরুনি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। চুল ভেজা অবস্থায় চিরুনি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। অনেক চুল ভেজা অবস্থায় বেশি দুর্বল থাকে। তাই ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানোর পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা ভালো।

চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার জট কমাতে সহায়ক হতে পারে। শ্যাম্পু করার পর চুলের দৈর্ঘ্য এবং ডগায় কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল তুলনামূলকভাবে মসৃণ হয় ও আঁচড়ানো সহজ হতে পারে। তবে কন্ডিশনার কিংবা কোনো প্রসাধনী অতিরিক্ত ব্যবহার করাও ঠিক নয়। নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া উচিত।

রাতে ঘুমানোর সময় চুল সম্পূর্ণ খোলা রেখে ঘুমালে ঘর্ষণের কারণে জট বাড়তে পারে। তাই লম্বা চুল হলে খুব শক্ত করে না বেঁধে ঢিলেঢালা বেণি কিংবা পনিটেল করা যেতে পারে। বালিশের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘর্ষণ কমানোর জন্য মসৃণ কাপড়ের বালিশের কভারও সহায়ক হতে পারে।

চুলে জট নিয়মিত তৈরি হলে শুধু জট ছাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে কারণ খুঁজে বের করা দরকার। অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে চুলকানি, খুশকি, ঘা কিংবা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- চুলের জট কখনোই শক্তি প্রয়োগ করে টেনে ছাড়ানো উচিত নয়। ধীরে ধীরে আঙুল, প্রশস্ত দাঁতের চিরুনি এবং প্রয়োজনমতো কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি কমানো যায়। নিয়মিত পরিচর্যা, চুল পরিষ্কার রাখা ও অতিরিক্ত তাপ এবং রাসায়নিক ব্যবহার এড়িয়ে চললে জটের প্রবণতাও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on আগস্ট ২৫, ২০২৬ 10:58 am

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

কলকাতার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড পেলো চ্যানেল আইয়ের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার কলকাতার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড পেলো চ্যানেল আইয়ের তথ্যচিত্র ‘পায়ের…

% দিন আগে

নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে ঝগড়া: দুই সন্তানের সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের…

% দিন আগে

৬ হাজার ৫০০ বছর আগে মানুষের দাঁত দিয়ে তৈরি হয়েছিল অলংকার!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে, যা প্রাচীন মানুষের জীবনযাপন…

% দিন আগে

নদীতে ভ্রমণ: এক অন্য রকম অনুভূতি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

বিজ্ঞানীর পরিবর্তে এআই ও রোবটই করবে পরীক্ষা?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞান গবেষণার একটি প্রচলিত চিত্র হলো- ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানী পরীক্ষা সাজাচ্ছেন,…

% দিন আগে

আমলকি কেনো খাবেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমলকি বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত এবং পুষ্টিকর ফল। ছোট আকারের এই…

% দিন আগে