দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমলকি বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত এবং পুষ্টিকর ফল। ছোট আকারের এই ফলটির স্বাদ টক এবং কষাটে হলেও এর পুষ্টিগুণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি মানুষের খাদ্যাভ্যাসে জায়গা করে নিয়েছে। কাঁচা আমলকি, ভর্তা, আচার বা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে এটি খাওয়া হয়।
আমলকিতে ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমলকির অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর ভিটামিন সি-এর উপস্থিতি। ভিটামিন সি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এটি কোলাজেন তৈরিতে প্রয়োজনীয়। কোলাজেন শরীরের ত্বক, রক্তনালি, হাড় এবং বিভিন্ন সংযোজক টিস্যুর গঠনে ভূমিকা রাখে। তাই ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খাদ্যতালিকায় রাখা শরীরের জন্য উপকারী।
আমলকিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন ফল এবং সবজিতে থাকা প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। তবে কোনো একটি ফল খেলেই সব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব- এমন ধারণা ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে বিভিন্ন ধরনের ফল এবং সবজির সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
আমলকিতে খাদ্যআঁশও রয়েছে। খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আঁশযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখায় সহায়তা করতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যাভ্যাসে আমলকির মতো ফল জায়গা পেতে পারে।
আমলকির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে ক্যালোরি তুলনামূলকভাবে কম ও এটি ফল হিসেবে সহজেই খাদ্যতালিকায় যোগ করা যায়। তবে আমলকির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা মিষ্টি উপাদান মিশিয়ে খেলে খাবারটির সামগ্রিক পুষ্টিমান এবং স্বাস্থ্যগত সুবিধা কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে তাজা আমলকি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
অনেক সময় আমলকিকে চুল, ত্বক, হজম কিংবা বিভিন্ন রোগের প্রতিকার হিসেবে প্রচার করা হয়। এইসব দাবির সবগুলো সমানভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। বিশেষ কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে আমলকি ব্যবহার করা উচিত নয়।
যাদের পাকস্থলীতে অস্বস্তি কিংবা টকজাতীয় খাবারে সমস্যা হয়, তাদের আমলকি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত খাওয়ারও প্রয়োজন নেই। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত আমলকি খাওয়া যেতে পারে।
আমলকি হলো ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ফল এবং সবজি খাওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে আমলকিকে যুক্ত করা শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার একটি ভালো উপায় হতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২৪, ২০২৬ 11:35 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভিয়েতনামের নিয়া…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করেছে ইরান।…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিড়ালকে অনেকেই রহস্যময় প্রাণী হিসেবে দেখেন। কখনও একা একা ঘুরে…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাথরুম কিংবা রান্নাঘরের বেসিনে মরচের দাগ পড়া খুবই সাধারণ একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত দ্রুত বাড়ছে, ততই এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা…