দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পুইশাক আমাদের দেশের পরিচিত এবং জনপ্রিয় শাকসবজিগুলোর একটি। গ্রাম থেকে শহর- প্রায় সব জায়গাতেই পুইশাকের চাহিদা রয়েছে।
সাধারণত পুইশাক দিয়ে তরকারি, চচ্চড়ি কিংবা মাছের সঙ্গে রান্না করা হয়। স্বাদ এবং সহজলভ্যতার পাশাপাশি পুইশাকের রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ। নিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে পুইশাক খেলে এটি শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ এবং খাদ্যআঁশের জোগান দিতে পারে।
পুইশাকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ রয়েছে। খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে। একইসঙ্গে আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। যে কারণে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়।
পুইশাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। বিশেষ করে এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং কিছু বি-ভিটামিনের উপস্থিতি রয়েছে। ভিটামিন এ চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ও শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
পুইশাকে থাকা ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের জন্য ভিটামিন কে-সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণে বড় পরিবর্তন আনার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পুইশাকে পানি এবং খাদ্যআঁশের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। এই কারণে এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সবজি এবং শাকের বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। শাকসবজি বেশি খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্স্বাস্থ্যসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে পুইশাক রান্নার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। রান্নার আগে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে মাটি, বালি এবং অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত তেলে রান্না না করে কম তেল এবং পরিমিত মসলা ব্যবহার করলে খাবারটি আরও স্বাস্থ্যকর হতে পারে।
পুইশাক কোনো একক রোগের চিকিৎসা নয়; বরং এটি একটি পুষ্টিকর শাক হিসেবে সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, শস্য, ডাল এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে পুইশাক যুক্ত করলে খাদ্যতালিকা আরও বৈচিত্র্যময় এবং পুষ্টিকর হয়ে উঠতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২৪, ২০২৬ 10:39 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞানের জগতে বড় কোনো আবিষ্কারের জন্য সবসময় বড় গবেষণাগার, অত্যাধুনিক…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্ট্রোক এমন একটি জরুরি শারীরিক অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রোবট ও ছোট আকারের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগ…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্তন্যপায়ী প্রাণী বলতে আমরা সাধারণত এমন প্রাণীকেই বুঝি যারা ডিম…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…