১২ বছরের কিশোরের চোখে ধরা পড়লো ১৬ কোটি বছরের রহস্যময় জীবাশ্ম!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞানের জগতে বড় কোনো আবিষ্কারের জন্য সবসময় বড় গবেষণাগার, অত্যাধুনিক যন্ত্র কিংবা অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী প্রয়োজন হয় না।

কখনও কখনও কৌতূহলী একটি শিশুর চোখও এমন কিছু দেখতে পারে, যা বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন গবেষণার দরজা খুলে দেয়। চীনের বেইজিংয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে।

২০২৫ সালের শুরুতে নি জিংচেন নামের ওই কিশোর বাবা-মায়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের মেনতোউগৌ এলাকায় ঘুরতে গিয়ে একটি পাথরের গায়ে অদ্ভুত দুটি দাগ দেখতে পায়। জীবাশ্মের প্রতি আগ্রহী কিশোরটি দাগ দুটির ছবি তুলে অনলাইনে প্রকাশ করে। বিষয়টি পরে জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে। গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এগুলো সাধারণ পাথরের দাগ নয়; বরং প্রায় ১৬ কোটি বছর আগের একটি উভচর প্রাণীর পায়ের ছাপ।

Related Post

এই আবিষ্কারকে বিশেষ করে তুলেছে এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব। গবেষকদের মতে, এটি এশিয়ায় পাওয়া প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করা জুরাসিক যুগের উভচর প্রাণীর পদচিহ্ন। পায়ের ছাপের মধ্যে সামনের এবং পেছনের পায়ের আলাদা ছাপ শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাণীটি সম্ভবত এমন একটি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সঙ্গে আধুনিক স্যালামান্ডারের বিবর্তনীয় সম্পর্ক রয়েছে।

জুরাসিক যুগের কথা উঠলেই সাধারণ মানুষের মনে প্রথমে ডাইনোসরের কথা আসে। তবে সেই সময় পৃথিবীতে শুধু ডাইনোসরই ছিল না। বিভিন্ন ধরনের উভচর, সরীসৃপ, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য প্রাণীও পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবেশে বসবাস করতো। তাদের অনেকের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা সরাসরি দেহাবশেষের মাধ্যমে জানতে পারেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাণীর দেহ না থাকলেও তার চলাফেরার চিহ্ন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

পায়ের ছাপ একটি বিশেষ ধরনের জীবাশ্ম। এর মাধ্যমে প্রাণীটি কীভাবে হাঁটত, তার শরীরের আনুমানিক আকার কেমন ছিল এবং কোন পরিবেশে চলাচল করত- এইসব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যে কারণে কিশোরটির চোখে ধরা পড়া ছোট্ট দু’টি দাগ আসলে ১৬ কোটি বছর আগের একটি প্রাণীর চলাফেরার মুহূর্তকে ধরে রেখেছে।

এই ঘটনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে। বিজ্ঞানচর্চায় সাধারণ মানুষের পর্যবেক্ষণও কখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জীবাশ্ম সম্পর্কে আগ্রহ না থাকলে ওই কিশোর হয়তো পাথরের দাগ দুটিকে গুরুত্বই দিত না। তবে কৌতূহল থেকে ছবি তুলে প্রকাশ করায় বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে।

অবশ্য কোনো অদ্ভুত পাথরের দাগ দেখলেই সেটিকে জীবাশ্ম বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পরই কোনো নমুনার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। এই ঘটনাতেও পেশাদার গবেষণার মাধ্যমেই দাগগুলোর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা গেছে।

আবিষ্কারটি উত্তর চীনের প্রায় ১৬ কোটি বছর আগের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, বিজ্ঞানের ইতিহাসে কখনো কখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি আসে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে।

একটি শিশুর কৌতূহল, একটি পাথরের অদ্ভুত দাগ এবং বিশেষজ্ঞদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান- এই তিনটির সমন্বয়ে সামনে এসেছে ১৬ কোটি বছরের পুরোনো একটি গল্প। সে কারণেই ঘটনাটি শুধু প্রত্নজীববিদ্যার জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে বিবেচিত হবে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on আগস্ট ২৪, ২০২৬ 12:57 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

অভিভূত করার মতো একটি দৃশ্য!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে

স্ট্রোক হওয়ার আগে কী কী লক্ষণ দেখা যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্ট্রোক এমন একটি জরুরি শারীরিক অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে…

% দিন আগে

ছোট রোবটেও শক্তিশালী এআই: এনভিডিয়ার নতুন জেটসন অরিন ন্যানো ২

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রোবট ও ছোট আকারের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগ…

% দিন আগে

পুইশাকের পুষ্টিগুণ জেনে নিন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পুইশাক আমাদের দেশের পরিচিত এবং জনপ্রিয় শাকসবজিগুলোর একটি। গ্রাম থেকে…

% দিন আগে

২৩ কোটি ৬০ লাখ বছর আগেই কী স্তন্যপায়ী প্রাণীর পূর্বপুরুষ সন্তান জন্ম দিতো?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্তন্যপায়ী প্রাণী বলতে আমরা সাধারণত এমন প্রাণীকেই বুঝি যারা ডিম…

% দিন আগে

এমন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে হৃদয়টা জুড়িয়ে যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…

% দিন আগে