দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রোবট ও ছোট আকারের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়াতে নতুন কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করেছে এনভিডিয়া।
প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জেটসন অরিন ন্যানো ২ নামে নতুন একটি রোবোটিক্স কম্পিউটার ঘোষণা করেছে। এটি মূলত এমন সব যন্ত্রের জন্য তৈরি, যেখানে আকার, বিদ্যুৎ খরচ এবং কম্পিউটিং ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
নতুন প্ল্যাটফর্মটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর এআই কম্পিউটিং সক্ষমতা। এনভিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জেটসন অরিন ন্যানো ২ প্রতি সেকেন্ডে ৭৮ ট্রিলিয়ন অপারেশন পর্যন্ত এআই কম্পিউটিং করতে পারে। এতে রয়েছে ৮ গিগাবাইট মেমোরি এবং ৮ কোরের Arm প্রসেসর। যে কারনে ছোট আকারের রোবট, ড্রোন, ক্যামেরা-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা বা স্বয়ংক্রিয় পরিদর্শন যন্ত্রের মধ্যেই তুলনামূলক শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা যুক্ত করা সম্ভব হবে।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে ‘এজ এআই’। সাধারণভাবে কোনো ডিভাইসের এআই কাজ সম্পন্ন করার জন্য তথ্য দূরের ডেটা সেন্টারে পাঠানো হয়। তবে এজ এআইয়ের ক্ষেত্রে তথ্য ডিভাইসের কাছেই প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব। এতে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমে, প্রতিক্রিয়ার সময় কমে ও অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য দূরে পাঠানোর প্রয়োজনও হয় না।
ধরা যাক, একটি ড্রোন কোনো গুদামে পণ্য খুঁজছে। ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা প্রতিটি ছবি যদি ক্লাউড সার্ভারে পাঠাতে হয়, তাহলে নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। তবে ড্রোনের ভেতরেই শক্তিশালী এআই কম্পিউটার থাকলে সেটি স্থানীয়ভাবে ছবি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। একইভাবে কারখানায় কোনো রোবট পণ্যের ত্রুটি শনাক্ত করতে পারে কিংবা একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র আশপাশের পরিবেশ বুঝে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
এনভিডিয়া জানিয়েছে, নতুন প্ল্যাটফর্মটির আকার আগের প্রজন্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৫ ওয়াট ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে একই ধরনের কর্মক্ষমতা দিতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
এই ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব শুধু রোবট শিল্পে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি, শিল্প, নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্মার্ট শহরেও ছোট আকারের এআই কম্পিউটার ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে সবসময় দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাওয়া যায় না, সেখানে স্থানীয়ভাবে এআই প্রক্রিয়াকরণ কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রযুক্তিটির বাস্তব প্রয়োগ কতটা দ্রুত বাড়বে, সেটি নির্ভর করবে দাম, সফটওয়্যার সমর্থন ও ডেভেলপারদের আগ্রহের ওপর। এনভিডিয়া জানিয়েছে, জেটসন অরিন ন্যানো ২-এর মডিউল এবং ডেভেলপার কিট ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পাওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন এই প্ল্যাটফর্ম একটি বড় প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে- এআই কেবল বিশাল ডেটা সেন্টারের প্রযুক্তি হয়ে থাকবে না; বরং ধীরে ধীরে ছোট রোবট, ড্রোন, ক্যামেরা এবং দৈনন্দিন যন্ত্রের মধ্যেও শক্তিশালী এআই কম্পিউটিং ছড়িয়ে পড়বে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ২৭, ২০২৬ 3:28 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞানের জগতে বড় কোনো আবিষ্কারের জন্য সবসময় বড় গবেষণাগার, অত্যাধুনিক…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্ট্রোক এমন একটি জরুরি শারীরিক অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পুইশাক আমাদের দেশের পরিচিত এবং জনপ্রিয় শাকসবজিগুলোর একটি। গ্রাম থেকে…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্তন্যপায়ী প্রাণী বলতে আমরা সাধারণত এমন প্রাণীকেই বুঝি যারা ডিম…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩…