দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিজ্ঞান গবেষণার একটি প্রচলিত চিত্র হলো- ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানী পরীক্ষা সাজাচ্ছেন, যন্ত্র চালাচ্ছেন, ফলাফল লিখে রাখছেন এবং পরবর্তী পরীক্ষা কী হবে তা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে এই পুরো প্রক্রিয়ার বড় অংশ যদি এআই ও রোবট নিজেরাই করতে পারে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Pacific Northwest National Laboratory (PNNL) বর্তমানে এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির Center for Robotics and Autonomy বিজ্ঞান গবেষণায় automation, robotics এবং assured AI একত্রিত করে autonomous science-এর ভিত্তি তৈরি করছে।
তাদের ARCADIA-Agentic Robotics and Curated AI Data for Intelligent Autonomy platform AI agents, robotics এবং data systems-কে একটি সমন্বিত discovery ecosystem হিসেবে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে।
Autonomous science বলতে বোঝায় এমন একটি গবেষণা ব্যবস্থা যেখানে এআই শুধু তথ্য বিশ্লেষণ করবে না; বরং কোন পরীক্ষা করা উচিত, কীভাবে করা উচিত এবং ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পরীক্ষা কী হবে- এইসব সিদ্ধান্তের কিছু অংশও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিতে পারবে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, বিজ্ঞানীরা একটি নতুন material আবিষ্কার করতে চাইছেন। সাধারণ পদ্ধতিতে বিভিন্ন chemical composition তৈরি করে একটির পর একটি পরীক্ষা করতে হয়। এতে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে এআই যদি আগের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারে কোন composition সবচেয়ে সম্ভাবনাময়, তাহলে robot সেই composition তৈরি করে পরীক্ষা চালাতে পারে।
ফলাফল আবার এআই-এর কাছে যাবে। এআই ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী experiment নির্বাচন করবে। এরপর robot আবার পরীক্ষা করবে।
এভাবে AI → experiment → result → AI decision → নতুন experiment—একটি ধারাবাহিক চক্রও তৈরি হতে পারে।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে গবেষণার গতি। একজন বিজ্ঞানী দিনে সীমিত সংখ্যক experiment পরিচালনা করতে পারেন। তবে automated laboratory নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারে।
এই ধরনের প্রযুক্তি নতুন ওষুধ, battery material, semiconductor material, chemical process ও energy technology আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
PNNL-এর লক্ষ্য শুধু robot দিয়ে laboratory automation করা নয়। তারা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় যেখানে AI ও robotics একসঙ্গে কাজ করে scientific discovery-কে দ্রুততর করবে।
তবে এখানে ‘এআই বিজ্ঞানীর জায়গা নিয়ে নেবে’- এমন সরল ব্যাখ্যা ঠিক নয়। কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় hypothesis তৈরি, ফলাফলের ব্যাখ্যা, নৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বড় বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন নির্ধারণে মানুষের ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বরং ভবিষ্যতের মডেলটি হতে পারে মানুষ ও এআই-এর সহযোগিতা। বিজ্ঞানী বড় প্রশ্ন নির্ধারণ করবেন, এআই সম্ভাব্য experiment সাজাবে, robot সেগুলো করবে এবং এআই বিপুল ডাটা বিশ্লেষণ করে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। Laboratory-তে ভুল সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক chemical reaction কিংবা equipment failure তৈরি করতে পারে। তাই PNNL ‘assured AI’-এর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ এআই-এর সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যদি autonomous science সফল হয়, তাহলে গবেষণার গতি নাটকীয়ভাবে বাড়তে পারে। আজ যে আবিষ্কারের জন্য বছরের পর বছর পরীক্ষা করতে হয়, ভবিষ্যতে এআই-নিয়ন্ত্রিত automated laboratory হয়তো অনেক দ্রুত সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে দিতে পারে।
সে কারণে autonomous science-কে শুধু robotics কিংবা এআই-এর আরেকটি ব্যবহার হিসেবে দেখা যায় না। এটি বিজ্ঞান কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই পদ্ধতির একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on আগস্ট ৩০, ২০২৬ 9:50 am
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার কলকাতার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড পেলো চ্যানেল আইয়ের তথ্যচিত্র ‘পায়ের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নাচের ক্লাসে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে, যা প্রাচীন মানুষের জীবনযাপন…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চুলে জট বাঁধা অনেকের জন্যই দৈনন্দিন জীবনের বিরক্তিকর একটি সমস্যা।…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমলকি বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত এবং পুষ্টিকর ফল। ছোট আকারের এই…