ডায়বেটিস রোগীরা কী খেজুর খেতে পারেন?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ডায়বেটিস বা ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কী খাবেন, কতটুকু খাবেন- এসব বিষয়ে সচেতনতা না থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

এমন একটি খাদ্য হলো খেজুর, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। তাই প্রশ্ন উঠেই- ডায়বেটিস রোগীরা কি খেজুর খেতে পারেন?

খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, বিশেষ করে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ। এছাড়া এতে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন (বিশেষ করে ভিটামিন বি), খনিজ যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন থাকে। এসব উপাদান শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু সমস্যা হলো, খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি থেকে কিছু ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে।

Related Post

তবে সব খেজুর একই রকম নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে কম। ফলে পরিমিত পরিমাণে খেলে তা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য একেবারে নিষিদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি কারও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে দিনে ১-২টি খেজুর খাওয়া যেতে পারে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।

খেজুর খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। একসাথে অনেক খেজুর খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই খেজুর খেতে চাইলে তা দিনের অন্যান্য কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খেতে হবে। যেমন- ভাত, রুটি বা অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে খেজুর খাওয়া যেতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেজুর খাওয়ার সময়। খালি পেটে খেজুর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই এটি খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরে খাওয়াই ভালো। এছাড়া খেজুরের সঙ্গে প্রোটিন বা ফ্যাটজাতীয় খাবার (যেমন বাদাম) খেলে শর্করার শোষণ ধীরে হয়।

ডায়বেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা হলো নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা। খেজুর খাওয়ার আগে ও পরে রক্তে শর্করার পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সহজেই বোঝা যাবে এটি শরীরে কেমন প্রভাব ফেলছে।

খেজুর একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও ডায়বেটিস রোগীদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ- দুটোর কোনোটিই নয়। বরং সচেতনতা, পরিমিতি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললেই খেজুর উপভোগ করা সম্ভব।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 12:25 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

ভাতের সঙ্গে ঘি খেলেও কী মেদ কমতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…

% দিন আগে

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস এ স্বীকৃতি অর্জন করলো এনার্জিপ্যাক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…

% দিন আগে

গ্যালাক্সি এস২৬ এফই: সাশ্রয়ী দামে শক্তিশালী এস সিরিজের স্মার্টফোন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্যামসাং-এর ফ্যান এডিশন, সংক্ষেপে এফই সিরিজের মূল লক্ষ্য হলো- ফ্ল্যাগশিপ…

% দিন আগে

প্রেমের নাটক করার মতো বয়স নাই : শবনম ফারিয়া

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার দাবিতে প্রেমনির্ভর…

% দিন আগে

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করলো ইরান

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইজিস সিস্টেম সমৃদ্ধ যুদ্ধজাহাজ…

% দিন আগে

ছোট্ট হলুদ ‘ড্রাগন’ আবিষ্কার!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রকৃতির জগতে এমন প্রাণী রয়েছে, যাদের দেখলে মনে হতে পারে…

% দিন আগে