সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে যা করবেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সন্তানের সুশিক্ষা বলতে শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়াকে বোঝায় না। একজন শিশুকে সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, সহানুভূতিশীল, আত্মনির্ভরশীল এবং অন্যের প্রতি সম্মানশীল হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশুর প্রথম শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকেই। তাই বাবা-মায়ের আচরণ, কথা বলার ধরন ও সন্তানকে সময় দেওয়ার বিষয়গুলো তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিজেরা ভালো উদাহরণ তৈরি করা। বাবা-মা যদি শিশুর সামনে মিথ্যা বলেন, অন্যকে অসম্মান করেন বা রাগের সময় খারাপ ভাষা ব্যবহার করেন, তাহলে শুধু মুখে ভালো আচরণের শিক্ষা দিয়ে খুব বেশি লাভ হবে না। শিশুরা বড়দের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে অনেক কিছু শেখে।

Related Post

সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। সে স্কুলে কী শিখেছে, বন্ধুদের সঙ্গে কেমন সময় কাটিয়েছে, কোনো সমস্যায় পড়েছে কি না- এইসব বিষয়ে জানতে হবে। শুধু পড়াশোনার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন না করে তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথাও শুনতে হবে। সিডিসি’র শিশু বিকাশবিষয়ক নির্দেশনায় পরিবারে শিশুর সঙ্গে কথা বলা, বই পড়া, সময় কাটানো এবং উষ্ণ ও সংবেদনশীল আচরণকে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক অভিভাবকত্বের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করা যেতে পারে। কখন পড়বে, কখন খেলবে, কখন ঘুমাবে- এইসব বিষয়ে বয়স অনুযায়ী একটি সহজ রুটিন থাকলে শিশু দায়িত্বশীল হতে শেখে। নিয়ম করার পাশাপাশি বাবা-মাকেও সেই নিয়ম ধারাবাহিকভাবে মেনে চলতে হবে। সিডিসি বলছে, নিয়ম এবং রুটিন শিশুদের নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে ও কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে তা বুঝতে সাহায্য করে।

ভুল করলে সন্তানকে অপমান কিংবা মারধর না করে ভুলের কারণ বুঝিয়ে বলতে হবে। শাস্তির পরিবর্তে তার আচরণ সংশোধনের সুযোগ দেওয়া বেশি কার্যকর। ভালো কাজ করলে প্রশংসা করা উচিত। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে।

বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বয়স অনুযায়ী গল্পের বই, বিজ্ঞানভিত্তিক বই, জীবনী বা জ্ঞানমূলক বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া যেতেই পারে। একইসঙ্গে খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কাজের সুযোগও দিতে হবে।

সন্তানের শিক্ষাজীবনে স্কুলের সঙ্গে বাবা-মায়ের যোগাযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাভিত্তিক সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, স্কুলে অভিভাবকদের ইতিবাচক সম্পৃক্ততা শিশুদের পড়াশোনা, আচরণ এবং সামাজিক দক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে মনে রাখতে হবে, সন্তানকে সুশিক্ষিত করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো তাকে ভালোবাসা, শৃঙ্খলা, স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব- এই চারটির মধ্যে ভারসাম্য রেখেই বড় করা। শুধু ভালো ফলাফল নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাই হওয়া উচিত সন্তানকে শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

This post was last modified on আগস্ট ৩১, ২০২৬ 12:02 pm

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

স্বর্ণ-রুপার বিশাল মজুতের সন্ধান প্রশান্ত মহাসাগরে!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এবং রুপার মজুতের সন্ধান…

% দিন আগে

মাত্র দুই সপ্তাহের অভিযানে ৩১ নতুন প্রাণী!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর অনেকটাই হয়তো আমাদের পায়ের নিচে নয়,…

% দিন আগে

সমুদ্র তটে দুটি পাখি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ১ আশ্বিন ১৪৩৩…

% দিন আগে

স্যামসাং এমএক্স বিজনেসের নতুন হেড অফ প্রোডাক্ট প্ল্যানিং হলেন মোহাম্মদ শাহরিয়ার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে সম্প্রতি নিজেদের মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স (এমএক্স) বিজনেসের হেড অব…

% দিন আগে

ফুডপ্যান্ডায় ইউনিমার্ট থেকে কেনাকাটায় ঢাকা–ব্যাংকক রাউন্ড ট্রিপের কাপল টিকিট জেতার সুযোগ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গ্রাহকদের আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ দিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন ফুড…

% দিন আগে

কলকাতায় পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের দুই সিনেমা পুরস্কার জিতলো

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের…

% দিন আগে